কাজের চাপে অতিষ্ঠ হয়ে মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ বিএলওর, নাটকীয় উদ্ধার শ্রীরামপুরে
শনিবার সকালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে ব্যারাকপুরগামী একটি যাত্রীবোঝাই লঞ্চ থেকে মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ দেন বিএলও তথা শিক্ষক মহম্মদ কায়ামুদ্দিন। লঞ্চে নিজের মোবাইল ও ভোটার তালিকা সংশোধনের (এসআইআর) নথিপত্র রেখে তিনি আচমকাই গঙ্গায় ঝাঁপ দেন। ফেরিঘাটের কর্মীরা তৎক্ষণাৎ তৎপরতার সাথে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ পৌঁছে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করে।
উদ্ধার হওয়ার পর কায়ামুদ্দিন জানান, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজে অত্যাধিক মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। বিশেষ করে নথি ডিজিটালাইজেশনের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলেন ওই শিক্ষক। তাঁর অভিযোগ, সমস্যার কথা নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের জানালেও কোনো সুরাহা হয়নি। দিনের পর দিন এই কাজের বোঝা সামলাতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। শ্রীরামপুরের কাউন্সিলর সন্তোষ কুমার সিংয়ের দাবি, প্রযুক্তিতে দক্ষ না হওয়া সত্ত্বেও ওই শিক্ষকের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাড়াহুড়ো করে এসআইআর-এর কাজ শেষ করার নির্দেশিকা এবং অহেতুক শুনানির কারণেই ওই বিএলও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। এই চরম পদক্ষেপের জন্য নির্বাচন কমিশনের কর্মপদ্ধতি ও রাজনৈতিক চাপকেই দায়ী করেছেন স্থানীয় নেতৃত্ব।

