কালচিনিতে উন্নয়নের ‘রিপোর্ট কার্ড’ হাতে রুদ্রমূর্তি অভিষেকের, শাহ-মোদীকে তোপ দেগে দিলেন বড় প্রতিশ্রুতি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
উত্তরবঙ্গ জয়ে তৃণমূলের মাস্টারস্ট্রোক! বুধবার কালচিনিতে আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ মেগা রোড-শো শেষে জনগর্জন সভায় মাতলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ পরবর্তী ৩,৯৪০ কোটি টাকার উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে বিজেপিকে শ্বেতপত্র প্রকাশের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। বীরেন্দ্র বারাকে জয়ী করলে কালচিনিতে নিজস্ব হাসপাতাল এবং পুরসভা গড়ার ঘোষণা করে ডুয়ার্সের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের অঙ্গীকার করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
এদিন আক্রমণাত্মক মেজাজে অভিষেক বলেন, “আমি মিথ্যে বলি না, তাই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে এসেছি। ক্ষমতা থাকলে বিজেপি গত ১২ বছরের কাজের হিসেব দিক।” চা সুন্দরী প্রকল্প থেকে কিষাণ মান্ডি—উন্নয়নের লম্বা তালিকা পেশ করে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি নেতারাই মানুষের হকের টাকা আটকে দিল্লিতে চিঠি পাঠায়। পিএফ-এর টাকা লুটের প্রসঙ্গ তুলেও গেরুয়া শিবিরকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন তিনি।
মোদী সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে অভিষেক দাবি করেন, দিদির ‘স্বাস্থ্য সাথী’ ও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের রক্ষাকবচ। নাগরিকত্ব ইস্যুতে অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, স্বাধীনতার ৭৮ বছর পর কেন দেশবাসীকে নিজেদের পরিচয় প্রমাণ করতে হবে? একইসঙ্গে বিএসএফ-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েও সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার কড়া সমালোচনা করেন তিনি।
ডুয়ার্সের ফুটবল প্রেমীদের জন্য নিজের ক্লাব ‘ডায়মন্ড হারবার ফুটবল ক্লাব’-এর প্রদর্শনীর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সভার শেষে ভোটারদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “বিজেপি টাকা দিলে নিয়ে নিন, ওটা আপনাদেরই টাকা। কিন্তু ইভিএম-এর বোতাম টেপার সময় ওদের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিন জোড়া ফুলেই।”

