কালিয়াচক কাণ্ডে এনআইএ-র হাতে চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ, রিপোর্ট হাতে পেলেই কি এফআইআর

মালদহের কালিয়াচক-মোথাবাড়ি কাণ্ডে তদন্তের পরিধি যত বাড়ছে, রহস্যের জট ততই ঘনীভূত হচ্ছে। কলকাতা থেকে আইজি সোনিয়া সিং-এর নেতৃত্বে এনআইএ-র একটি বিশেষ তদন্তকারী দল সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে। তদন্তকারীরা স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পুলিশের কাছ থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে এই ভিডিও ফুটেজগুলোকেই তদন্তের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।
এনআইএ আধিকারিকরা মূলত ঘটনার সময়কাল বা ‘টাইমলাইন’ খুঁটিয়ে দেখছেন। স্থানীয় প্রশাসন ঠিক কখন খবর পেয়েছিল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কতটা সময় নিয়েছিল, তা এখন আতসকাঁচের তলায়। পুলিশের ভূমিকা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের পদক্ষেপের কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। সংগৃহীত ভিডিও ও প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি রিপোর্ট ইতিমধ্যেই কলকাতার এনআইএ সদর দফতরে পাঠানো হয়েছে, যা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলছে।
তদন্তের মাঝেই গ্রেফতার হওয়া মোফাক্কেরুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। জানা গিয়েছে, তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এআইএমআইএম-এর প্রার্থী ছিলেন। যদিও মোফাক্কেরুল নিজে এবং দলের জেলা সভাপতি রেজাউল করিম বর্তমানে কোনো সক্রিয় রাজনৈতিক যোগসূত্র অস্বীকার করেছেন। তবে ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে কথা বলতে গিয়েই তিনি গ্রেফতার হয়েছেন বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে সব নজর এনআইএ-র পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ভিডিও ফুটেজ ও সংগৃহীত প্রমাণের শক্তি যাচাই করে সংস্থাটি কি আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর দায়ের করবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে। কলকাতার সদর দফতরে চলমান বৈঠক শেষ হলেই স্পষ্ট হবে কালিয়াচক কাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে মোড় নিচ্ছে। একদিকে রাজনৈতিক যোগসূত্র আর অন্যদিকে ভিডিও ফুটেজের বিশ্লেষণ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল।
