কিশতওয়ারে মেগা এনকাউন্টার: ১৪ দিনেও থামেনি গুলিযুদ্ধ, নিকেশ অভিযানে ‘অপারেশন ত্রাশি-১’ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
শ্রীনগর: নতুন বছরের শুরু থেকেই তপ্ত ভূস্বর্গ। দক্ষিণ কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গিদের সঙ্গে ভারতীয় সেনার রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম জারি রয়েছে। শনিবার ভোর থেকে কিশতওয়ারের ডোলগাম এলাকায় ফের শুরু হয়েছে গুলির লড়াই। গোয়েন্দা সূত্রে ওই এলাকায় তিন জৈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গির লুকিয়ে থাকার খবর মেলায় ঘেরাও শুরু করে ‘হোয়াইট নাইট কর্পস’, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সিআরপিএফ-এর যৌথ বাহিনী। সেনার উপস্থিতি টের পেয়েই এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে সন্ত্রাসবাদীরা, পালটা জবাব দিচ্ছে জওয়ানরাও।
লক্ষ্য জৈশ নিকেশ: দু’সপ্তাহের মহাযুদ্ধ
গত ১৪ দিন ধরে কিশতওয়ারের গভীর জঙ্গলে চলছে ‘অপারেশন ত্রাশি-১’। গত দুই সপ্তাহে এটি চতুর্থ সংঘর্ষের ঘটনা। জানুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে এপর্যন্ত এক জওয়ান শহিদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত সাতজন। গত সপ্তাহেও কিশতওয়ারের সংঘর্ষে আরও তিন জওয়ান জখম হয়েছিলেন। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং অপারেশন পরিচালনা করতে খোদ কিশতওয়ারে ঘাঁটি গেড়েছেন নর্দার্ন আর্মি কম্যান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্রতীক শর্মা।
অন্ধকার ও প্রতিকূল আবহাওয়া
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ জানুয়ারি মালি দানা টপ এবং ২৫ জানুয়ারি জনসির-কান্দিওয়ার এলাকায় জঙ্গিদের প্রায় কোণঠাসা করে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু ঘন জঙ্গল এবং প্রচণ্ড শীতের প্রতিকূল আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে জঙ্গিরা ডেরা বদল করতে সক্ষম হয়। তবে এবার ডোলগাম এলাকায় জঙ্গিদের পালানোর সমস্ত পথ বন্ধ করে দিয়েছে ঘাতক বাহিনী।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন একাধিক এলাকা
নিরাপত্তার স্বার্থে এবং গুজব ছড়ানো রুখতে উপত্যকার বিস্তীর্ণ অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। গত ২৩ জানুয়ারি থেকে ছাত্রু এলাকা এবং তার পরবর্তী ছয় কিলোমিটার ব্যাসার্ধ জুড়ে নেট-শাটডাউন জারি করেছে প্রশাসন। এর ফলে সিংপুরা, আরিগাম, দ্বাথর ও নৈদগামের মতো এলাকাগুলি বর্তমানে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। কিশতওয়ারের দুর্গম পাহাড় ও উপত্যকার প্রতিটি ইঞ্চিতে এখন চলছে চিরুনি তল্লাশি। জঙ্গিরা ডেরা না ছাড়া পর্যন্ত এই মেগা অপারেশন থামবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

