কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কি এবার ঝাঁটাপেটা করবে মহিলারা? বাসন্তীর তৃণমূল বিধায়কের মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ভোট ঘোষণার অনেক আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে পারদ চড়তে শুরু করেছে। কিন্তু সেই উত্তেজনা এবার এক চরম সংঘাতের রূপ নিল বাসন্তীর তৃণমূল বিধায়ক শ্যামল মণ্ডলের একটি বিস্ফোরক মন্তব্যে। রাজ্যজুড়ে যখন ধাপে ধাপে আধাসেনা নামানোর প্রস্তুতি তুঙ্গে, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘ঝাঁটাপেটা’ করার নিদান দিয়ে বিতর্কের দাবানল জ্বালিয়ে দিলেন এই শাসক নেতা।
বিধায়ক শ্যামল মণ্ডলের অভিযোগ, নির্বাচন ঘোষণার অনেক আগে থেকেই বিপুল সংখ্যক বাহিনী পাঠানোর পেছনে আসলে সাধারণ মানুষের মনে ভীতি ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করার একটি সুপরিকল্পিত ছক রয়েছে। তাঁর সাফ কথা, গ্রাম বাংলার শান্তিপ্রিয় মানুষের ওপর যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনোভাবে অত্যাচার চালায়, তবে মহিলারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। প্রয়োজনে তাঁরা ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নামবেন এবং বাহিনীকে লক্ষ্য করে ‘ঝাঁটাপেটা’ করতেও দ্বিধা করবেন না। বিধায়কের এই বেলাগাম মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে ছিছিক্কার পড়ে গিয়েছে।
বিরোধী শিবির এই ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে জানিয়েছেন, এই ধরনের হুমকি আসলে শাসক দলের হারার ভয় এবং তাঁদের অগণতান্ত্রিক মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোট লুট রুখতে এবং সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে সহায়তা করতে আসে, ভয় দেখাতে নয়। তৃণমূলের এই উসকানিমূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলেও মনে করছে গেরুয়া শিবির।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আগামীকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই রাজ্যে প্রথম দফার কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রবেশ করতে শুরু করছে। মোট ৪৮০ কো ম্পা নি বাহিনীর মধ্যে প্রথম দফায় আসছে ২৪০ কো ম্পা নি। বীরভূম, পুরুলিয়া, কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরের মতো স্পর্শকাতর জেলাগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে বিশাল এই বাহিনী। একদিকে যখন বুথ স্তরে রুট মার্চ শুরু করার তোড়জোড় চলছে, তখন বিধায়কের এই ‘ঝাঁটাপেটা’ দাওয়াই ভোটপূর্ববর্তী বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাহিনীর বুট আর তৃণমূলের এই হুঁশিয়ারির দ্বৈরথে তপ্ত হতে চলেছে বাংলার বসন্ত।

