কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য ডবল ধামাকা, চিকিৎসা বিমার নিয়মে আমূল বদল – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসার খরচ মেটানোর ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশিকায় মেডিকেল রিইম্বার্সমেন্ট বা চিকিৎসার টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াকে কয়েক গুণ সহজ ও গতিশীল করা হয়েছে। এখন থেকে আর বড় অংকের চিকিৎসার বিল পাসের জন্য মাসের পর মাস সরকারি দপ্তরের চক্কর কাটতে হবে না।
১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিলে সরাসরি সিলমোহর
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত নতুন অফিস মেমোরেন্ডাম (OM) অনুযায়ী, চিকিৎসার বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। আগে যেখানে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিল স্থানীয়ভাবে অনুমোদন করা যেত, এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের বিভাগীয় প্রধানরা (HOD) কোনো বাইরের আর্থিক পরামর্শ (IFD) ছাড়াই সরাসরি ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মেডিকেল ক্লেম মঞ্জুর করতে পারবেন। এর ফলে ফাইলের দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং কর্মীরা দ্রুত টাকা হাতে পাবেন।
দ্রুত টাকা পাওয়ার জন্য যে দুটি শর্ত মানতে হবে
আপনার চিকিৎসার টাকা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে, তার জন্য দুটি বিশেষ দিকে নজর রাখতে হবে:
১. বিধিবদ্ধ নিয়ম: আপনার করা ক্লেইম বা বিলে CGHS বা CS(MA) এর বিদ্যমান নিয়মের বাইরে কোনো বিশেষ ছাড় বা শিথিলতা চাওয়া যাবে না।
২. নির্ধারিত দর: হাসপাতালের বিলটি সম্পূর্ণভাবে সরকারি অর্থাৎ CGHS রেট অনুযায়ী হতে হবে। যদি বিলের অংক সরকারি হারের চেয়ে বেশি হয় এবং আপনি সেই অতিরিক্ত টাকার জন্য আবেদন করেন, তবে সেটি পুরনো দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।
ক্লেম সেটেলমেন্টের সীমা বৃদ্ধি
সরকার সাধারণ ক্লেম সেটেলমেন্টের সীমা ২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাফে ৫ লক্ষ টাকা করে দিয়েছে। যাদের চিকিৎসার বিল পুরোপুরি সরকারি দরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তারা এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রযুক্তিগত জটিলতা ছাড়াই দ্রুত পেমেন্ট পেয়ে যাবেন।
পেনশনভোগীদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা
পেনশনভোগীদের চিকিৎসার টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সরল করা হয়েছে। তবে আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি:
- সময়সীমা: হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার (Discharge) ৬ মাসের মধ্যে আবেদন করা বাধ্যতামূলক।
- আবেদনস্থল: পেনশনভোগীদের তাদের নিজ নিজ ওয়েলনেস সেন্টারের চিফ মেডিকেল অফিসারের (CMO) কাছে ফাইল জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র একনজরে
- সঠিকভাবে পূরণ করা ক্লেম ফর্ম।
- ডিসচার্জ সামারি এবং রেফারাল স্লিপ।
- হাসপাতালের আসল বিল এবং রসিদ।
- জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে ‘এমার্জেন্সি সার্টিফিকেট’।
- CGHS কার্ডের কপি এবং বাতিল করা চেক (Cancelled Cheque)।
অ্যাম্বুলেন্সের খরচও দেবে সরকার
অনেকেরই অজানা যে, হাসপাতালে যাওয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াও সরকার বহন করে। নিয়ম অনুযায়ী, শহরের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্সের খরচ রিইম্বার্সমেন্ট করা হবে তখনই, যখন ডাক্তার এটি প্রত্যয়ন করবেন যে রোগীর অবস্থা এমন ছিল যে অন্য কোনো যানবাহনে নিয়ে যাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারত।
সরকারের এই নতুন পদক্ষেপে লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় কর্মী ও প্রবীণ পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

