কেন অপরাজেয় পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার? আমেরিকার ঘুম কাড়া ইরানের সেই ‘কিল জোন’ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক সমুদ্রপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী এখন তেহরানের দুর্ভেদ্য দুর্গ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেও যেখানে পিছু হটতে বাধ্য হচ্ছেন, তার নেপথ্যে রয়েছে ইরানের নিখুঁত সামরিক কৌশল। মাত্র ২৪ মাইল চওড়া এই সরু জলপথটি এখন আক্ষরিক অর্থেই এক ‘কিল জোন’।
হরমুজ কেন তেহরানের হাতের মুঠোয়?
- ভৌগোলিক মারণফাঁদ: হরমুজ প্রণালী এতটাই সংকীর্ণ যে এখান দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। ইরানের হাজার মাইল দীর্ঘ পাহাড়ি উপকূলরেখা থেকে ধেয়ে আসা অ্যান্টি-শিপ মিসাইল শনাক্ত করা রাডারের পক্ষেও আসাম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
- অপ্রতিরোধ্য ড্রোন ও কামিকাজে বোট: দামী মিসাইলের বদলে ইরান ব্যবহার করছে সস্তা কিন্তু ভয়ংকর ‘শাহেদ’ ড্রোন এবং বিস্ফোরক ভর্তি রিমোট-কন্ট্রোল চালিত স্পিডবোট। এই ছোট নৌকাগুলো সাধারণ মাছ ধরার ট্রলারের ছদ্মবেশে নিমেষেই সমুদ্রবক্ষে মাইন বিছিয়ে দিতে সক্ষম।
- পাহাড়ি আড়াল: সমতল ভূমির পরিবর্তে ইরানের উপকূল জুড়ে রয়েছে অজস্র পাহাড় ও গুহা। এখান থেকে মোবাইল মিসাইল লাঞ্চারগুলো হামলার পর দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে ফেলে, যা মার্কিন স্যাটেলাইট নজরদারিকেও ফাঁকি দেয়।
মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আর টহল বিমান মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও ছোট সাবমেরিন এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান এই জলপথের একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে উঠেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই রুটে যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে তেহরানের একটি ছোট পদক্ষেপই যথেষ্ট।

