কেন বছরের বাকি শিবরাত্রির থেকে মহাশিবরাত্রি একদম আলাদা? জানুন এর আসল রহস্য – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
প্রতি মাসেই তো শিবরাত্রি আসে, তবে ফাল্গুন মাসের এই বিশেষ তিথিকে কেন ‘মহাশিবরাত্রি’ বলা হয়? এর নেপথ্যে কেবল ধর্মীয় বিশ্বাস নয়, লুকিয়ে আছে গভীর বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক কারণ। ২০২৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি পালিত হতে চলা এই মহাশিবরাত্রির মাহাত্ম্য অন্যান্য সময়ের চেয়ে কেন কয়েক গুণ বেশি, দেখে নিন একনজরে।
শিব ও শক্তির মহামিলন
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এই বিশেষ দিনেই দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ তপস্যার পর এই তিথিতেই শিব ও শক্তি একীভূত হন। আবার অন্য মতে, এই রাতেই ভগবান শিব প্রথমবার ‘জ্যোতির্লিঙ্গ’ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যার কোনো আদি বা অন্ত নেই। তাই এই রাতকে অন্ধকারের বিনাশ ঘটিয়ে জ্ঞানের আলোয় ফেরার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।
মহাজাগতিক শক্তির বিশেষ প্রভাব
আধ্যাত্মিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে মহাশিবরাত্রি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই রাতে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ এমন এক অবস্থানে থাকে, যেখানে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তি স্বাভাবিকভাবেই ওপরের দিকে প্রবাহিত হয়। এই প্রাকৃতিক শক্তির সদ্ব্যবহার করতেই মহাশিবরাত্রির রাতে মেরুদণ্ড সোজা করে জেগে থাকার এবং শিব উপাসনার বিধান রয়েছে। বছরের অন্যান্য মাসিক শিবরাত্রিতে এই মহাজাগতিক শক্তির প্রভাব এতটা প্রবল থাকে না।
আধ্যাত্মিক মুক্তি ও সিদ্ধি
এই রাতকে বলা হয় ‘সিদ্ধরাত্রি’। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, মহাশিবরাত্রিতে করা উপাসনা সরাসরি মহাদেবের কাছে পৌঁছায়। এটি কেবল আচার-অনুষ্ঠান নয়, বরং নিজের ভেতরের ক্রোধ, লোভ ও অহংকারকে জয় করে আত্মিক শুদ্ধি ঘটানোর শ্রেষ্ঠ সময়। দেবাদিদেবের বিশেষ কৃপায় এই রাতে আধ্যাত্মিক সাধনা করলে জীবনের সকল নেতিবাচকতা দূর হয়ে পজিটিভ শক্তির সঞ্চার ঘটে।
তাই ধর্মীয় বিশ্বাস হোক বা মহাজাগতিক শক্তি, সব দিক থেকেই মহাশিবরাত্রি বছরের শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে শক্তিশালী রাত। এই বিশেষ তিথিতে মহাদেবের আরাধনা আপনার জীবনে সুখ, শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির দুয়ার খুলে দিতে পারে।

