কেন ভোরবেলাতেই দেওয়া হয় ফাঁসি? জানুন নেপথ্যের আসল কারণ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মৃত্যুদণ্ড যেকোনো আইনি ব্যবস্থার কঠোরতম সাজা। কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যায়, ফাঁসির সাজা সবসময় দিনের আলো ফোটার আগেই কার্যকর করা হয়। কেন এই বিশেষ সময়কে বেছে নেওয়া হয়? ১৯৭১ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের মুশিরাবাদ জেলে হওয়া একটি ফাঁসির অভিজ্ঞতার নিরিখে এই রহস্য উন্মোচন করেছেন প্রাক্তন জেল সুপারিনটেনডেন্ট পি. শ্রীনিবাস রেড্ডি।
ভোরে ফাঁসি দেওয়ার প্রধান কারণ:
কারা কর্তৃপক্ষের মতে, সূর্যোদয়ের আগে ফাঁসি কার্যকর করার মূল কারণ হলো কারাগারের শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখা। ভোরবেলায় জেলের অন্যান্য বন্দীরা নিজ নিজ সেলে তালাবন্ধ বা ‘লক-আপ’-এ থাকে। ফলে ফাঁসির মতো একটি সংবেদনশীল ও বেদনাদায়ক প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সুযোগ থাকে না। সাধারণত ভোর ৩:৩০ থেকে ৪:০০টের মধ্যে এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডের আগের সেই মুহূর্তগুলো:
- নিভৃত কারাবাস: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীকে ‘কনডেমেশন সেল’-এ রাখা হয় এবং কড়া নজরদারিতে রাখা হয় যাতে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করতে না পারেন।
- শারীরিক সুস্থতা: নিয়ম অনুযায়ী, বন্দী শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই সাজা কার্যকর সম্ভব। গুরুতর কোনো অসুস্থতা থাকলে ফাঁসি স্থগিত করা হয়।
- শেষ ইচ্ছা ও খাবার: ফাঁসির আগের রাতে বন্দীকে সাধারণ খাবার দেওয়া হলেও, শেষ দিন ভোরে তাঁর পছন্দমতো খাবার দেওয়া হয়।
- প্রক্রিয়া: ফাঁসির মঞ্চে তোলার আগে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ও মেডিকেল অফিসারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। মুখ কালো কাপড়ে ঢেকে এবং হাত পিছমোড়া করে বেঁধে লিভার টেনে সাজা কার্যকর করা হয়।
সবশেষে, ৫ মিনিট পর চিকিৎসকের পরীক্ষার মাধ্যমে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। সাধারণত ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ অপরাধের ক্ষেত্রেই এই চরম দণ্ড কার্যকর করে ভারতের বিচার ব্যবস্থা।

