লেটেস্ট নিউজ

কেরল হল কেরলম অথচ ব্রাত্য বাংলা, মোদী সরকারের দ্বিচারিতায় ক্ষুব্ধ মমতা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তিরুবনন্তপুরম পুরসভা বামেদের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার পরই দক্ষিণ ভারতে নিজেদের জমি শক্ত করতে মাস্টারস্ট্রোক দিল বিজেপি। কেরলের মানুষের দীর্ঘদিনের আবেগ ও ভূমিপুত্রদের দাবি মেনে রাজ্যের নাম ‘কেরল’ থেকে বদলে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দফতর ‘সেবা তীর্থ’-এ আয়োজিত বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কেরলের ভাগ্য খুললেও বাংলার ভাগ্যে কেন জুটল বঞ্চনা? এই প্রশ্ন তুলেই এবার সরাসরি নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্র-বাম অলিখিত জোটের ইঙ্গিত

কেরলের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বাংলার প্রতি কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা। তাঁর দাবি, সিপিএম পরিচালিত কেরল সরকার ২০২৩ ও ২০২৪ সালে যে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, ভোটমুখী রাজ্যে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই তাতে সায় দিয়েছে কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “বিজেপি ও সিপিএমের মধ্যে যে একটি অলিখিত জোট গড়ে উঠছে, আজকের পর তা আর গোপন রইল না।” কেরলবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আট বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত ‘বাংলা’ নামের প্রস্তাব কেন এখনও লাল ফিতের ফাসঁ আটকে?

‘W’ অক্ষরের বিড়ম্বনা ও বঞ্চনার খতিয়ান

রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা কেবল আবেগ নয়, বরং প্রশাসনিক ও ব্যবহারিক বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে ‘West Bengal’ বা ‘W’ দিয়ে নাম শুরু হওয়ায় সর্বভারতীয় স্তরে বাংলার পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের ইন্টারভিউ বা পরীক্ষায় একদম শেষে ডাকা হয়। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও দিল্লির বৈঠকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয় সবার শেষে। এই বৈষম্য ঘোচাতেই রাজ্যের সংস্কৃতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ‘বাংলা’ নাম প্রস্তাব করেছিল নবান্ন।

বিজেপিকে বাঙালি বিরোধী তকমা

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিজেপি আসলে ‘বাঙালি বিরোধী’। তাঁর দাবি, নির্বাচনের সময় বহিরাগত নেতারা বাংলায় কথা বলে বা মনীষীদের নাম নিয়ে বাঙালির মন জয়ের চেষ্টা করলেও বাস্তবে তাঁরা বাংলার উন্নয়ন বা পরিচিতিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। নবান্নের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, যদি ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশেই ‘পাঞ্জাব’ নামে প্রদেশ থাকতে পারে, তবে প্রতিবেশী বাংলাদেশের পাশে ‘বাংলা’ নামে রাজ্য থাকতে আপত্তি কোথায়? কিন্তু কেন্দ্রের তরফে এই যুক্তির কোনো সদুত্তর মেলেনি গত ১৫ বছরেও।

রাজনৈতিক সমীকরণ ও আগামীর লড়াই

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেরলের নাম বদলকে গেরুয়া শিবিরের ‘আবেগের রাজনীতি’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বাংলার নাম বদল নিয়ে কেন্দ্রের এই টালবাহানাকে আসন্ন নির্বাচনে বড় হাতিয়ার করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যখনই তিনি প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন, তখনই এই দাবি তুলেছেন। কিন্তু প্রতিবারই মিলেছে শুধু উপেক্ষা। কেন্দ্রের এই ‘বাঙালি বিদ্বেষী’ মনোভাবের বিরুদ্ধে আগামী দিনে রাজ্য জুড়ে আন্দোলনের সুর আরও চড়াতে পারে শাসক দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *