কোটি কোটি বছর আগে চাঁদে ছিল অক্সিজেনের অস্তিত্ব! প্রাচীন শিলা বিশ্লেষণে মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

পৃথিবী ও চাঁদের জন্মলগ্নের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন এবং রহস্যময়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে পৃথিবীর সাথে মঙ্গল গ্রহের সমান আকৃতির এক বিশাল বস্তুর সংঘর্ষের ফলে চাঁদের সৃষ্টি হয়েছিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—কোটি কোটি বছর আগে চাঁদে হয়তো অক্সিজেনের অস্তিত্ব ছিল। ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বিজ্ঞানীদের এই গবেষণাটি মহাকাশ বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং চাঁদে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
গবেষণায় ব্যবহৃত শিলাটি আমেরিকার অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের সময় চাঁদের মাটি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা এই শিলায় ‘ইলমেনাইট’ নামক একটি খনিজের সন্ধান পেয়েছেন, যা মূলত লোহা, টাইটেনিয়াম এবং অক্সিজেনের সমন্বয়ে গঠিত। শিলাটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এতে থাকা টাইটেনিয়াম মাত্র তিনটি ইলেকট্রন ক্ষরণ করেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, টাইটেনিয়াম যখন অত্যন্ত কম পরিমাণ অক্সিজেনের সংস্পর্শে আসে, ঠিক তখনই এমন রাসায়নিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। এই পর্যবেক্ষণ থেকেই গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, ৩৮০ কোটি বছর আগে চাঁদে ম্যাগমা থেকে শিলা তৈরির সময় সেখানে অক্সিজেনের উপস্থিতি ছিল।
চাঁদে পৃথিবীর মতো বায়ুমণ্ডল বা প্লেট টেকটনিক না থাকলেও, এখানকার প্রাচীন শিলাগুলো ৪০০ কোটি বছর আগের সৌরজগতের ইতিহাস বহন করছে। জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা জানিয়েছেন, তাঁরা এখন পর্যন্ত একটি ইলমেনাইট পরীক্ষা করলেও পূর্বের আরও ৫০০টি শিলা পরীক্ষার তথ্য খতিয়ে দেখছেন। তাঁদের ধারণা, চাঁদের বিভিন্ন অঞ্চলের শিলাতেও একই ধরনের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া যেতে পারে। তবে চাঁদের সব জায়গায় পরিস্থিতি এক ছিল কি না, তা জানতে আরও গভীর বিশ্লেষণের প্রয়োজন।
বিজ্ঞানীদের পরবর্তী লক্ষ্য হলো চাঁদ থেকে আনা আরও নমুনা পরীক্ষা করা এবং এটি নিশ্চিত করা যে ঠিক কতটা অক্সিজেন সেখানে বিদ্যমান ছিল। এই গবেষণার সফল সমাপ্তি ভবিষ্যতে চাঁদে প্রাণের উৎসের সন্ধানে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। ৫০ বছর আগে সংগৃহীত শিলার পাশাপাশি আগামী দিনে চাঁদ থেকে আনা নতুন নমুনাগুলোও এই রহস্যের জট খুলতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে। মহাকাশপ্রেমীদের নজর এখন এই গবেষণার দিকে, যা আমাদের প্রতিবেশী উপগ্রহ সম্পর্কে দীর্ঘদিনের ধারণা বদলে দিতে পারে।
