লেটেস্ট নিউজ

কোভিড পরবর্তী রিয়েল এস্টেট বুম, হাউজিং ফিনান্সে ব্যাপক গতি: অর্থনৈতিক সমীক্ষা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নতুন দিল্লি: দেশে আবাসন শিল্পের অর্থায়নে প্রসারের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চের শেষ নাগাদ ব্যক্তিগত গৃহঋণের বকেয়া পরিমাণ প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি-র (GDP) তুলনায় গৃহঋণের অংশীদারিত্ব ২০১৫ সালের ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে ১১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সমীক্ষা অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারীর পরবর্তী সময়ে বাড়ি বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গৃহঋণের চাহিদাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

রিয়েল এস্টেট ও জিভিএ-তে অবদান

বিগত এক দশকে ‘রিয়েল এস্টেট এবং আবাসন মালিকানা’ ক্ষেত্রটি বার্ষিক মোট মূল্য সংযোজনে (GVA) গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ অবদান রেখেছে। এটি পরিষেবা-ভিত্তিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে এই খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং নির্মাণ ও আর্থিক পরিষেবাগুলোর সাথে এর নিবিড় সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে। অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, গত এক দশকে সরকারের নীতিগত সংস্কার রিয়েল এস্টেট খাতের আনুষ্ঠানিককরণে সহায়তা করেছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (শহুরে)-র অধীনে সুদে ভর্তুকি, সাশ্রয়ী আবাসন তহবিল, স্বল্প সুদের হার এবং সহজ ঋণ প্রক্রিয়ার মতো পদক্ষেপগুলো আবাসনের চাহিদা বাড়ানোর পাশাপাশি ‘হাউজিং ফিন্যান্স’ বা আবাসন অর্থায়নের পথকে সুগম করেছে।

ছোট শহরগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি

স্মার্ট সিটি মিশন এবং আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (UIDF)-এর মতো শহুরে উদ্যোগের ফলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির শহরগুলোতে (Tier 2 and Tier 3 cities) বাড়ির চাহিদা বেড়েছে। এই সংস্কারগুলোর কারণে সেপ্টেম্বর ২০২১ থেকে রিয়েল এস্টেট খাত একটি ধারাবাহিক উন্নতির পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। গৃহস্থালির সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ হওয়ায় বাড়ি বিক্রির হার বেড়েছে। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলোতেও বিক্রির এই গতি বজায় রয়েছে, যার পেছনে সহায়ক সাশ্রয়ী পরিস্থিতি এবং মুদ্রাস্ফীতির হ্রাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

রিয়েল এস্টেট পরামর্শদাতা সংস্থা ‘প্রপটায়গার’ (PropTiger)-এর তথ্য উল্লেখ করে সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, গড় আবাসন বিক্রির পরিমাণ ২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের তুলনায় এখনও অনেক বেশি।

সমীক্ষায় আরও জানানো হয়েছে:

“গৃহঋণের ক্ষেত্রেও নিরন্তর বিস্তার ঘটেছে। ২০২৫ সালের মার্চের শেষে ব্যক্তিগত গৃহঋণের পরিমাণ ৩৭ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০১৫ সালের মার্চের শেষে ছিল মাত্র ১০ লক্ষ কোটি টাকা। এর ফলে জিডিপিতে গৃহঋণের অংশীদারিত্ব ৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১১ শতাংশের বেশি হয়েছে, যা আবাসন চাহিদার গভীর আর্থিকীকরণকে (Financialization) নির্দেশ করে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *