খড়্গপুর সদরের লড়াই: হিরণ বিদায়, ফের কি দিলীপ ঘোষের ম্যাজিক কাজ করবে রেলশহরে? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্রে অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের পরিবর্তে ফের অভিজ্ঞ নেতা দিলীপ ঘোষের ওপর আস্থা রাখল বিজেপি। ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকেই বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন তৎকালীন রাজ্য বিজেপি সভাপতি। তবে ২০১৯-এর উপনির্বাচনে আসনটি তৃণমূলের দখলে গেলেও ২০২১-এ হিরণ চট্টোপাধ্যায় তা পুনরুদ্ধার করেন। এবার ২০২৬-এর মেগা লড়াইয়ে পুরনো দুর্গ রক্ষায় অভিজ্ঞ দিলীপ ঘোষ বনাম তৃণমূলের প্রদীপ সরকারের দ্বৈরথ ঘিরে সরগরম খড়্গপুরের রাজনীতি।
দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক উত্থান ও বিতর্ক সমান্তরালভাবে চলেছে। আরএসএস-এর প্রচারক থেকে বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হিসেবে তাঁর মেয়াদকালে দল রাজ্যে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছিল। যদিও নানা সময়ে তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য ও সাম্প্রতিককালে দলীয় নির্দেশ অমান্য করে সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিদায়ী বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে এবার শ্যামপুর কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে দল। খড়্গপুরের দীর্ঘদিনের কংগ্রেসী ঐতিহ্য ভেঙে বিজেপির জমি শক্ত করাই এখন দিলীপের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ঐতিহাসিকভাবে খড়্গপুর সদর ছিল কংগ্রেসের ‘চাচা’ জ্ঞান সিং সোহনপালের খাসতালুক। গত কয়েকটি নির্বাচনে এখানে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে। ২০১৬ সালে দিলীপ ঘোষ ৩৯ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও ২০২১-এ হিরণ চট্টোপাধ্যায় ৪৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। এবার ৪ মে নির্বাচনী ফলাফলে স্পষ্ট হবে যে, দিলীপ ঘোষ তাঁর পুরনো পিচে দাপট দেখিয়ে আসনটি ধরে রাখতে পারেন কি না, নাকি তৃণমূলের প্রদীপ সরকার ফের জয়ের হাসি হাসবেন।

