লেটেস্ট নিউজ

খামেনিকে হত্যায় যেভাবে সফল হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের রুদ্ধশ্বাস অপারেশন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার নেপথ্যে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। দীর্ঘ কয়েক মাসের নিশ্ছিদ্র পরিকল্পনা এবং সিআইএ-র নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালানো এই যৌথ অভিযানে কার্যত তছনছ হয়ে গেছে তেহরানের নিরাপত্তা বলয়। গভীর রাতের বদলে কেন সকাল বেলাকে বেছে নেওয়া হলো এবং কীভাবে ৩০টি বোমা ছুড়ে মাটির গভীর স্তরে থাকা বাঙ্কার ধ্বংস করা হলো, তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে তোলপাড়।

সকালের আলোয় অপারেশন ‘সারপ্রাইজ’

সাধারণত এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের হামলা গভীর রাতে চালানো হলেও, খামেনির ক্ষেত্রে কৌশল বদলেছিল মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল, শনিবার সকালে তেহরানের একটি নির্দিষ্ট কম্পাউন্ডে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন খামেনি। সেই মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। ৩০টি শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করে খামেনির ভূ-গর্ভস্থ বাঙ্কারকে টার্গেট করা হয়, যেখানে তিনি নিরাপদ আশ্রয়ে ছিলেন বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সিআইএ এবং ইসরায়েলের নিখুঁত সমন্বয়

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভিযানের মূল ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিল মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। তারা খামেনি এবং তার দেহরক্ষীদের দৈনন্দিন রুটিন বা ‘প্যাটার্ন অব লাইফ’ দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সরাসরি হামলায় অংশ নেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো থেকে এই পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, আমেরিকার উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া খামেনির পক্ষে সম্ভব ছিল না।

নিহত শীর্ষ কর্মকর্তারা

এই হামলায় কেবল খামেনি নন, ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারিয়েছেন। ইরান নিশ্চিত করেছে যে, এই অভিযানে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—

  • আলি শামখানি (ডিফেন্স কাউন্সিল সেক্রেটারি)
  • ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ (প্রতিরক্ষামন্ত্রী)
  • জেনারেল মুহাম্মদ পাকপৌর (আইআরজিসি কমান্ডার)

কেন ব্যর্থ হলো ইরানি গোয়েন্দা সংস্থা

তেহরানের প্রাণকেন্দ্রে দিনের আলোয় এই ধরনের হামলা ইরানের কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থার বিশাল এক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন এবং টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করে দীর্ঘ সময় ধরে তথ্য সংগ্রহ করেছে শত্রুপক্ষ। এমনকি দেহরক্ষীদের গতিবিধি অনুসরণ করেও খামেনির অবস্থান নিশ্চিত করা হয়েছিল। এই অভিযান কেবল একজন নেতাকে হত্যার জন্য নয়, বরং ইরানের পুরো সামরিক কাঠামোকে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়ার জন্য চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *