খামেনেইকে খতম করাই কি ছিল আসল লক্ষ্য? ইজরায়েলি মিসাইল হামলায় কাঁপল ইরান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
শনিবার ভোরে এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানের সাক্ষী থাকল মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের আকাশসীমায় ঢুকে একের পর এক বিধ্বংসী মিসাইল হামলা চালাল ইজরায়েলি বায়ুসেনা। রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে ইসফাহান, কুম, কারাজ ও কেরমামশাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। তবে এই হামলার পেছনে ইজরায়েলের যে মারাত্মক দাবির কথা সামনে আসছে, তাতে কার্যত স্তম্ভিত আন্তর্জাতিক মহল। তেল আবিবের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
খামেনেইর দপ্তরের খুব কাছেই আছড়ে পড়ল মিসাইল
সূত্রের খবর, তেহরানের যে সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইজরায়েল আঘাত হেনেছে, তার খুব কাছেই অবস্থিত খামেনেইর প্রশাসনিক দপ্তর। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই এই রকেট ও মিসাইল বর্ষণ করা হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই লড়াইতে আমেরিকা ও জেরুজালেম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে।
কোথায় আছেন সর্বোচ্চ নেতা? উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি
ইজরায়েলের এমন বিস্ফোরক দাবির পর খামেনেইর শারীরিক অবস্থা ও অবস্থান নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছেন। হামলার সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই তাঁকে একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ইজরায়েল যে কোনো সময় বড়সড় আঘাত হানতে পারে—এমন পূর্বাভাস তেহরানের কাছে আগে থেকেই ছিল। সেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপই সম্ভবত খামেনেইর প্রাণ বাঁচিয়েছে।
সেনাকর্তাদের মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য
ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ না জানালেও, বেশ কিছু সূত্র দাবি করছে যে এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সেনাকর্তা এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এই খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়নি। তেহরানের আকাশে তখনো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে এবং গোটা দেশজুড়ে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
ইজরায়েলের এই সরাসরি আস্ফালন কি এবার ইরানকে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পথে ঠেলে দেবে? আয়াতোল্লা খামেনেই এবং পেজেশকিয়ানকে লক্ষ্য করার এই দুঃসাহসিক দাবির পাল্টা তেহরান কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

