খামেনেইয়ের মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা নাকি যুদ্ধের শুরু? ইরান জুড়ে আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তেহরান/দুবাই: রমজানের সকালে রক্তক্ষয়ী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরান। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল দশটা। তেহরানের ব্যস্ত রাস্তায় যখন সাধারণ মানুষের ভিড়, ঠিক সেই মুহূর্তেই আকাশ চিরে আছড়ে পড়ল আমেরিকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইজরায়েলের ‘অপারেশন লায়ন রোর’-এর ক্ষেপণাস্ত্র। মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, হামলায় ৮৬ বছর বয়সি খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি তাঁর মরদেহের ছবি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে দেখানো হয়েছে বলেও সূত্র মারফত খবর পাওয়া যাচ্ছে। যদিও তেহরান এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, খামেনেই নিরাপদ স্থানে রয়েছেন।
পাল্টা মারে কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য
হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রণংদেহি মূর্তিতে ধরা দেয় ইরান। কাতারের আল উদেইদ, কুয়েতের আল সালেম এবং আমিরশাহির আল ধাফরা সহ মোট সাতটি মার্কিন সেনাঘাঁটিতে মুহুর্মুহু মিসাইল বর্ষণ শুরু করে তেহরান। দুবাই, আবুধাবি, রিয়াধ এবং জেরুজালেমেও যুদ্ধের আঁচ পৌঁছেছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে বুর্জ খলিফা খালি করে দেওয়া হয়েছে এবং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি?
ইরানের এই পালটা হামলায় এখনও পর্যন্ত ২০১ জনের মৃত্যু এবং ৭০০ জনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদা ও রেভ্যুলশনারি গার্ডের শীর্ষ কমান্ডার মহম্মদ পাকপুর। ইউক্রেন-রাশিয়া এবং পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাতের মাঝেই এই নতুন রণক্ষেত্র তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাশিয়া এই হামলাকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে নিন্দা করেছে। অন্যদিকে, ভারত সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযত হওয়ার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে।

