খামেনেই হত্যার বদলা নিতে করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে ভয়াবহ হামলা, রণক্ষেত্র পাকিস্তানে মৃত অন্তত ৮ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল পাকিস্তানের করাচি। মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ অভিযানে খামেনেইয়ের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই করাচিতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীর চালানো গুলিতে অন্তত ৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
করাচিতে তুঙ্গে উত্তেজনা
খামেনেই এবং ইরানের শীর্ষ কমান্ডারদের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভকারীরা করাচির মার্কিন কনস্যুলেটের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, উত্তেজিত জনতা কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ব্যাপক পাথরবৃষ্টি করে এবং ভবনের একাংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। আকাশছোঁয়া আগুনের শিখা ও ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। বিক্ষোভকারীদের মুখে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ এবং ‘ইজরায়েল নিপাত যাক’ স্লোগান শোনা যায়।
প্রাণহানি ও সংঘর্ষের চিত্র
পরিস্থিতি সামাল দিতে পাকিস্তানি সেনা ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকাটি। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিতে ৮ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যে ৩ জন মার্কিন দূতাবাস কর্মীও জখম হয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
কড়া নজরদারিতে সেনাপ্রধান
আঞ্চলিক ও ধর্মীয় অনুভূতির জেরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির নিরাপত্তা বাহিনীকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গোটা এলাকা বর্তমানে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে।
ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
করাচির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ইরান যদি পালটা কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করে তবে তেহরানকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে যা বিশ্বকে অবাক করে দেবে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তাপ এখন সরাসরি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও জনজীবনে বড়সড় প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।

