লেটেস্ট নিউজ

খিদের জ্বালায় কাজ থামালেন বিচারক! এজলাসে বসেই বললেন ‘আমি ক্লান্ত, আজ আর নয়’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের বিচারব্যবস্থায় মামলার পাহাড় আর বিচারকদের অভাব নতুন নয়, কিন্তু এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চে যা ঘটল তা নজিরবিহীন। টানা শুনানির পর বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী সাফ জানিয়ে দিলেন, তিনি অত্যন্ত ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত, তাই এই মুহূর্তে রায় দান করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

ঠিক কী ঘটেছিল?

চন্দ্রলেখা সিং বনাম ডিআরটি-র একটি মামলার শুনানি চলছিল জাস্টিস বিদ্যার্থীর এজলাসে। Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে এই মামলার নিষ্পত্তি করার সময়সীমা ছিল। সেই চাপেই বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া শুনানি চলে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিট পর্যন্ত। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারপতি জানান, শরীর আর সায় দিচ্ছে না।

পাহাড়প্রমাণ কাজের চাপ

সেদিন বিচারপতির তালিকায় মোট ২৩৫টি মামলা নথিভুক্ত ছিল। যার মধ্যে ৯২টি ছিল একেবারে নতুন মামলা। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর বিকেল পর্যন্ত তিনি মাত্র ২৯টি নতুন মামলার শুনানি শেষ করতে পেরেছিলেন। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা টানটান উত্তেজনার শুনানির পর শারীরিক ও মানসিক অবসাদে ভেঙে পড়েন তিনি।

বিচারপতি খোলাখুলিই জানান, “আমি ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত। এই শারীরিক অবস্থায় বসে রায় লেখানো আমার পক্ষে আসাম্ভব।” পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে শেষ পর্যন্ত রায়দান স্থগিত রেখে তা সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বিচারকদের ওপর ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, এই ঘটনা তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে থাকল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *