গঙ্গার বালুচরে ১৭০ বছর অটল দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের নেপথ্যে কি শুধুই অলৌকিক মহিমা নাকি লুকানো বিজ্ঞান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
গঙ্গার পাড়ে নরম পলিমাটিতে ১৭০ বছর ধরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দির। ১৮৪৭ থেকে ১৮৫৫ সালের মধ্যে নির্মিত এই ১০০ ফুটের বেশি উঁচু নবরত্ন মন্দিরটি এক চুলও হেলে পড়েনি। ভক্তরা একে ‘মায়ের কৃপা’ বললেও এর স্থায়িত্বের আসল রহস্য লুকিয়ে আছে উন্নত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিস্ময়কর স্থাপত্যকলায়।
ভিত্তির নেপথ্যে বিজ্ঞানের ছোঁয়া
গঙ্গার ধারের পলিমাটিতে মন্দিরের বিপুল ভার ধরে রাখতে মাটির গভীরে শাল কাঠের শক্তিশালী ‘পাইল’ বসানো হয়েছিল। সেই যুগে সিমেন্ট না থাকলেও চুন, সুরকি, মেথি, গুড় এবং লোহার গুঁড়োর এক বিশেষ মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়, যা সময়ের সাথে পাথরের চেয়েও শক্ত হয়ে ওঠে।
ভারসাম্য রক্ষায় নবরত্ন শৈলী
বাংলার ঐতিহ্যবাহী নবরত্ন বা নয়টি চূড়া বিশিষ্ট নকশা মন্দিরের ওজন চারদিকে সুষমভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে কাঠামোর কোনো নির্দিষ্ট অংশে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। এছাড়া রানি রাসমণি মন্দির তৈরির জন্য গঙ্গার মূল স্রোত থেকে কিছুটা দূরে অপেক্ষাকৃত শক্ত জমি বেছে নিয়েছিলেন।
প্রাচীন ভারতের এই নিপুণ কারিগরি এবং রানি রাসমণির প্রবল নিষ্ঠার মেলবন্ধনেই দক্ষিণেশ্বর আজও আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিংকে টেক্কা দিয়ে স্বমহিমায় ভাস্বর।

