গণতন্ত্র বাঁচাতে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই মমতার! ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় বিস্ফোরক মুখ্যমন্ত্রী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা নিউজ ডেস্ক
রাজ্যে ভোটার তালিকা বা এসআইআর (SIR) সংশোধন নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরে জৈন মানস স্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনে কাজ না হওয়ায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে।
লুকিয়ে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ
মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, Supreme \titleonly কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ৪-৫ দিন ধরে কাজ শুরু হয়নি। বরং অনেকের প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত গোপনে তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। মমতার দাবি, “আমি নিজে Supreme \titleonly কোর্টে গিয়ে লড়াই করেছি। আমি নজর না দিলে হয়তো ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যেত।”
রাজনীতির ঊর্ধ্বে গণতন্ত্র রক্ষা
রাজনৈতিক রঙ বিচার না করেই সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমার দেখার প্রয়োজন নেই কে তৃণমূল, কে বিজেপি বা কে কংগ্রেস। আমার একটাই লক্ষ্য—গণতন্ত্র বাঁচুক এবং লোকতন্ত্র যেন বরবাদ না হয়।” যাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সঠিক পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও কেন এই বঞ্চনা, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্পের ডালি
এদিন শুধুমাত্র প্রতিবাদ নয়, প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেও গতি এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবানীপুরের অনুষ্ঠান থেকেই তিনি ভার্চুয়ালি হাওড়া, দুই বর্ধমান, মালদা, কোচবিহারসহ একাধিক জেলার প্রায় সাড়ে আটশো কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে রয়েছে:
- বাঁকুড়ার দ্বারকেশ্বর নদীর ওপর নতুন সেতু।
- ফুরফুরা শরিফে ১০০ শয্যার হাসপাতাল।
- টালিগঞ্জ ফায়ার স্টেশন ও মাদার অ্যান্ড চাইল্ড হাব।
ভবানীপুরকে ‘মিনি ইন্ডিয়া’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন যে, সব ধর্মের মানুষ যেন শান্তিতে ও খুশিতে থাকতে পারেন। সত্যের জয় হবেই—এই আত্মবিশ্বাসী সুরেই এদিন নিজের বক্তব্য শেষ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

