লেটেস্ট নিউজ

গান্ধী হত্যার নেপথ্যে: প্রার্থনা সভায় কে ছুঁড়েছিলেন প্রথম বোমা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: দেশভাগের দগদগে ক্ষত, লাশের মিছিল আর সাম্প্রদায়িক হিংসার আগুনে তখন জ্বলছে দিল্লি। ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট যখন দেশ স্বাধীন হচ্ছে, মহাত্মা গান্ধী তখন দিল্লিতে নেই; তিনি ব্যস্ত নোয়াখালী ও কলকাতায় দাঙ্গা থামানোর মরিয়া চেষ্টায়। কিন্তু শান্তি ফেরানোর এই চেষ্টাই কাল হয়েছিল জাতির জনকের জন্য।

অনশন ও ৫৫ কোটির বিতর্ক

দিল্লিতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা রুখতে ১৯৪৮ সালের ১৩ জানুয়ারি জীবনের শেষ অনশন শুরু করেন গান্ধীজি। তাঁর দাবি ছিল একটাই— দিল্লিতে শান্তি ফেরাতে হবে এবং পাকিস্তানকেও তার প্রাপ্য ৫৫ কোটি টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। ভারত সরকার যুদ্ধের আশঙ্কায় এই টাকা আটকে রাখতে চাইলেও গান্ধীর অনশনের চাপে তা দিয়ে দিতে বাধ্য হয়। আর এই সিদ্ধান্তই ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল কট্টরপন্থীদের একাংশকে। তাঁদের অভিযোগ ছিল, গান্ধীজি মুসলিম তোষণ করছেন।

২০ জানুয়ারির সেই প্রথম হামলা

অনেকেই জানেন ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম গডসের গুলিতে বাপুর মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু তার ১০ দিন আগেই অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি তাঁর ওপর প্রথম প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। দিল্লির বিড়লা হাউসে গান্ধীর প্রার্থনা সভায় বোমা ছুঁড়েছিলেন মদনলাল পাহওয়া। সৌভাগ্যবশত সেই বোমাটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং গান্ধীজি রক্ষা পান। কিন্তু গোয়েন্দা ব্যর্থতা ও নিরাপত্তার গাফিলতিতে সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

অহিংসার অপমৃত্যু

৩০ জানুয়ারি ১৯৪৮। দুর্বল শরীর নিয়ে প্রার্থনাসভার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন গান্ধীজি। তখনই ভিড়ের মধ্য থেকে বেরিয়ে এসে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করেন নাথুরাম গডসে। আদালতে দেওয়া ৯০ পাতার জবানবন্দিতে গডসে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রতি গান্ধীর ‘নরম মনোভাব’ এবং হিন্দু স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

গান্ধী চেয়েছিলেন ভারত এমন এক রাষ্ট্র হোক যেখানে সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু ভেদাভেদ থাকবে না। তাঁর সেই লড়াই আজও প্রাসঙ্গিক। শহীদ দিবসে সেই মহান আত্মার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *