গুগল-মেটাকে টেক্কা বিহারের দুই ভাইয়ের! কোডিং ছাড়াই অ্যাপ বানিয়ে সিলিকন ভ্যালিতে তোলপাড় – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সিলিকন ভ্যালির জাঁকজমকপূর্ণ টেক দুনিয়ায় এখন আলোচনার কেন্দ্রে বিহারের দুই যমজ ভাই— মুকুন্দ ঝা এবং মাধব ঝা। কোনো সিনেমাটিক চিত্রনাট্য নয়, বরং নিজেদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে বিশ্বখ্যাত টেক জায়ান্টদের রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের স্টার্টআপ ‘ইমারজেন্ট এআই’ (Emergent AI) বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জগতে এক নতুন বিপ্লব নিয়ে এসেছে।
কোডিং ছাড়াই তৈরি হবে সফটওয়্যার
সাধারণত একটি অ্যাপ বা সফটওয়্যার তৈরি করতে কয়েক হাজার লাইনের জটিল কোডিং লিখতে হয়, যার জন্য প্রয়োজন দক্ষ ও মহার্ঘ ডেভেলপার। কিন্তু ঝা ভ্রাতৃদ্বয় এই প্রথাগত ধারণাকে আমূল বদলে দিয়েছেন। তাঁদের আবিষ্কৃত “এজেন্টিক ভাইব কোডিং” (Agentic Vibe Coding) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কোনো প্রকার কোডিং জ্ঞান ছাড়াই সম্পূর্ণ কার্যকর অ্যাপ তৈরি করা সম্ভব। ব্যবহারকারী কেবল চ্যাটবক্সে নিজের প্রয়োজনের কথা জানালে (যেমন: “আমার পুরনো বই বিক্রির জন্য একটি অ্যাপ চাই যেখানে পেমেন্ট গেটওয়ে থাকবে”), এই এআই প্রযুক্তি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ডিজাইন থেকে ডাটাবেস— সবসহ একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যাপ প্রস্তুত করে দেয়।
অভাবনীয় সাফল্য ও বিনিয়োগ
মাত্র ৭ মাসের সংক্ষিপ্ত সফরেই এই স্টার্টআপটি যা অর্জন করেছে, তা বড় বড় সংস্থার কাছেও ঈর্ষণীয়:
- ব্যবহারকারী: মাত্র ৭ মাসে ৫০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন।
- রাজস্ব: বার্ষিক আয় প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় (৫০ মিলিয়ন ডলার) পৌঁছেছে।
- বিনিয়োগ: খোদ সফটব্যাঙ্ক (SoftBank) এবং খোসলা ভেঞ্চারসের (Khosla Ventures) মতো বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলি এই প্রজেক্টে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
শেকড় থেকে শিখরে পৌঁছানোর গল্প
বিহারের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া এই দুই ভাইয়ের কম্পিউটার প্রীতি ছিল ছোটবেলা থেকেই। মাত্র ১২ বছর বয়সে তাঁরা কোডিং আয়ত্ত করেন। উল্লেখ্য, মুকুন্দ ঝা এর আগে বিখ্যাত ডেলিভারি অ্যাপ ‘ডানজো’ (Dunzo)-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিটিও (CTO) হিসেবে কাজ করেছেন। অন্যদিকে মাধব ঝা এআই এবং ক্লাউড সিস্টেমে বিশেষজ্ঞ। ২০২৪ সালে তাঁরা দুই ভাই মিলে শুরু করেন ‘ইমারজেন্ট এআই’।
যেখানে একসময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বা উচ্চগতির ইন্টারনেটের অভাব ছিল, সেখান থেকে উঠে এসে আজ তাঁরা বিশ্বজুড়ে কয়েক কোটি মানুষের জন্য প্রযুক্তির পথ সহজ করে দিচ্ছেন। তাঁদের এই সাফল্য প্রমাণ করল, বিহারের মাটি থেকে উঠে আসা মেধা আজ গ্লোবাল টেক মার্কেটে গুগল বা মেটার মতো প্রতিষ্ঠানের সমকক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

