‘গ্রিনল্যান্ডে হামলার পরিকল্পনা তৈরি করো’.. সামরিক বাহিনীর প্রতি ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর নির্দেশ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর সিদ্ধান্তের পথে হাঁটছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর, এবার সেখানে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সামরিক প্রস্তুতির নেপথ্যে ট্রাম্পের কৌশল
সংবাদ সংস্থা ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সেনার ‘জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড’ (JSOC) কর্মকর্তাদের গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের একটি খসড়া তৈরি করতে বলেছেন। ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ড বিক্রিতে রাজি না হওয়ায় ট্রাম্প এখন ‘সামরিক পদক্ষেপ’ বা ফোর্সফুল টেকওভারের দিকে ঝুঁকছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
- উপদেষ্টাদের চাপ: ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কারিগর। তিনি চাইছেন ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার অভিযানের ধাঁচেই গ্রিনল্যান্ডে একটি দ্রুত অপারেশন চালানো হোক।
- রাশিয়া-চীন আতঙ্ক: ট্রাম্প প্রশাসনের আশঙ্কা, আমেরিকা যদি দ্রুত গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না নেয়, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলটি ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের দখলে চলে যেতে পারে।
খাদের কিনারে ন্যাটো জোট
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের মধ্যেই তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। অভিজ্ঞ কূটনীতিকরা সতর্ক করেছেন যে, ন্যাটোর মিত্র দেশ ডেনমার্কের ওপর এই ধরনের চাপ বা আক্রমণের পরিকল্পনা ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেক হতে পারে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কায়ার স্টারমারের মতো বিশ্বনেতারা ট্রাম্পের এই মনোভাবের তীব্র বিরোধিতা করতে পারেন, যার ফলে ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে বড় ধরনের ফাটল ধরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ডেনমার্কের অবস্থান
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। দেশের টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই ট্রাম্প ‘জাতীয় নিরাপত্তা’ ও ‘নতুন ভূখণ্ড দখলের’ মতো ইস্যুকে সামনে আনছেন।
অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের সমস্ত রাজনৈতিক দল একজোট হয়ে ট্রাম্পের এই আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, “আমরা আমেরিকান হতে চাই না, ডেনিশ শাসনের অধীনেও থাকতে চাই না। গ্রিনল্যান্ডবাসীরাই তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।”
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের এই অনমনীয় মনোভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিল কি না, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।

