গ্রিনল্যান্ড ইস্যু: ট্রাম্পের শুল্ক হুঙ্কারে ধস নামতে পারে ইউরোপীয় গাড়ি শিল্পে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
গ্রিনল্যান্ড দখলের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনড় অবস্থান এখন বিশ্ব রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের অটোমোবাইল বা গাড়ি নির্মাণ শিল্প এক গভীর সংকটের মুখে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণায় স্পষ্ট যে, গ্রিনল্যান্ড সংযুক্তিকরণ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ থেকে পিছিয়ে আসবেন না।
শুল্ক যুদ্ধ ও আট দেশের সংকট
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর প্রাথমিকভাবে ১০% শুল্ক আরোপ করা হবে। এই তালিকায় রয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ড। আগামী ১ জুনের মধ্যে এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ২৫% করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, এই প্রতিটি দেশই ন্যাটোর সদস্য এবং গ্রিনল্যান্ডে সামরিক মহড়ার জন্য ছোট ছোট সৈন্যদল পাঠিয়েছে, যা ট্রাম্পের ক্ষোভের অন্যতম কারণ।
ইউরোপীয় অটো সেক্টরে অশনি সংকেত
ইউরোপের অর্থনীতি মূলত তার শক্তিশালী গাড়ি শিল্পের ওপর দাঁড়িয়ে। বর্তমানে এই শিল্পটি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে:
- ইভি (EV) চাহিদায় মন্দা: বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না।
- চীনা প্রতিযোগিতা: সস্তা দরের চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ি ইউরোপীয় বাজারের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে।
- রপ্তানি ঝুঁকি: বিএমডব্লিউ (BMW), মার্সিডিজ-বেঞ্জ (Mercedes-Benz) এবং ভক্সওয়াগেন (Volkswagen)-এর মতো সংস্থাগুলোর আয়ের বড় অংশ আসে মার্কিন বাজার থেকে। ২৫% শুল্ক আরোপ হলে আমেরিকায় এই গাড়িগুলোর দাম আকাশচুম্বী হবে, যার ফলে বিক্রি তলানিতে ঠেকতে পারে।
জার্মানির ওপর চরম আঘাত
ব্রোকারেজ ফার্ম জেফরিসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই শুল্ক যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে জার্মানি। ইউরোপের অর্থনীতির ‘ইঞ্জিন’ হিসেবে পরিচিত জার্মানির জিডিপির একটি বিশাল অংশ আসে গাড়ি রপ্তানি থেকে। শুল্কের প্রভাবে উৎপাদন কমলে জার্মানিতে বড় ধরনের ছাঁটাই এবং অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শেয়ার বাজারে রক্তক্ষরণ
ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের প্রভাব ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সোমবার সকালেই ভক্সওয়াগেন, বিএমডব্লিউ এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ গ্রুপের শেয়ারের দাম ২.৫%-এর বেশি পড়ে গেছে। এছাড়া স্টেলান্টিসের শেয়ারেও ২.১% পতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল এবং উত্তর আমেরিকার বাজারের ওপর অতিনির্ভরশীলতার কারণেই অটোমোবাইল সেক্টর এই বাণিজ্য যুদ্ধের প্রথম শিকারে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে এই ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন যদি দ্রুত প্রশমিত না হয়, তবে ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী গাড়ি শিল্প অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

