লেটেস্ট নিউজ

চকলেট থেকে গাড়ি—সবই হবে সস্তা! ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: বড় সুবিধা পাবেন ভারতীয়রা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে একটি ঐতিহাসিক ও বৃহৎ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে ইউরোপ থেকে ভারতে আমদানিকৃত প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে অথবা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হবে। এর সরাসরি প্রভাবে ভবিষ্যতে কৃষি ও অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন খাতের পণ্য ভারতীয় গ্রাহকরা অনেক কম দামে কিনতে পারবেন।

চুক্তির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:

  • শুল্ক হ্রাস: ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ভারতে আসা ৯৬.৬ শতাংশ পণ্যের ওপর কর বাতিল বা হ্রাস করা হচ্ছে। এর ফলে বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • মেগা ডিল: ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে এটিকে এযাবৎকালের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক সমঝোতা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশি চকলেট, ওয়াইন এবং দামী গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
  • প্রধানমন্ত্রী মোদীর বক্তব্য: মঙ্গলবার এই চুক্তির ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এটি বিশ্বের মোট জিডিপির ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণকারী দুটি বিশাল অর্থনীতির মধ্যে এক অনন্য অংশীদারিত্ব।
  • ঐতিহাসিক মুহূর্ত: ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন এই চুক্তিকে “সমস্ত বাণিজ্য চুক্তির জননী” (Mother of all trade agreements) বলে বর্ণনা করেছেন।

যেসকল শিল্পজাত পণ্যের দাম কমতে চলেছে:

পণ্য (Product) বর্তমান শুল্ক (%) ভবিষ্যৎ শুল্ক (%)
যন্ত্রপাতি ও ইলেকট্রিক্যাল সরঞ্জাম সর্বোচ্চ ৪৪% প্রায় ০%
বিমান ও মহাকাশযান সংক্রান্ত সরঞ্জাম সর্বোচ্চ ১১% প্রায় ০%
চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম সর্বোচ্চ ২৭.৫% ৯০% পণ্যের ক্ষেত্রে ০%
প্লাস্টিক পণ্য সর্বোচ্চ ১৬.৫% প্রায় ০%
রাসায়নিক দ্রব্য সর্বোচ্চ ২২% প্রায় ০%
মোটর যান (গাড়ি) ১১০% ১০% (সীমিত কোটার অধীনে)
লোহা ও ইস্পাত সর্বোচ্চ ২২% প্রায় ০%
ওষুধ (Pharma) ১১% প্রায় ০%

যেসকল কৃষি ও খাদ্যদ্রব্যের দাম কমবে:

পণ্য (Product) বর্তমান শুল্ক (%) ভবিষ্যৎ শুল্ক (%)
ওয়াইন (Wine) ১৫০% ২০% – ৩০%
বিয়ার (Beer) ১১০% ৫০%
অলিভ অয়েল ও অন্যান্য তেল সর্বোচ্চ ৪৫% ০%
কিউয়ি এবং নাশপাতি ৩৩% ১০%
চকলেট, বিস্কুট, পাস্তা, পেট ফুড সর্বোচ্চ ৫০% ০%
ভেড়ার মাংস ৩৩% ০%

এই চুক্তির ফলে ভারতীয় বাজারে ইউরোপীয় মানসম্পন্ন পণ্যের প্রাপ্যতা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের পণ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *