লেটেস্ট নিউজ

চিনা স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল ‘তুষার দানব’, মহাকাশ থেকে দেখা গেল A23a-এর অন্তিম দশা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং ভয়ংকর ‘তুষার দানব’ এখন ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকা এই বিশাল হিমশৈলটিকে কেউ প্রকৃতির বিস্ময় হিসেবে দেখতেন, আবার কেউ একে আসন্ন মহাবিপদের সংকেত হিসেবে গণ্য করতেন।

চিনা স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ভয়ংকর দৃশ্য

A23a কোনো সাধারণ বরফের টুকরো নয়। এটি ৪,১৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত একটি বিশাল হিমশৈল। প্রায় তিন দশক ধরে সমুদ্রের তলদেশে আটকে থাকার পর এটি সম্প্রতি নড়াচড়া শুরু করেছিল। চিনের FY-3D স্যাটেলাইট এখন এই হিমশৈলটি ভেঙে যাওয়ার দৃশ্য শনাক্ত করেছে। চিনা আবহাওয়া দপ্তর (CMA)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকলেও হঠাৎ করেই হিমশৈলটি চারটি বড় অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
  • মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এর আয়তন ৯৪৮ বর্গকিমি থেকে কমে ৫০৩ বর্গকিমিতে দাঁড়িয়েছে।

ভেতর থেকে ফেটে যাচ্ছে হিমশৈল (হাইড্রোফ্র্যাকচারিং)

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে হিমশৈলটির ওপর নীল রঙের উজ্জ্বল দাগ দেখা যাচ্ছে। এগুলি কোনো সুন্দর হ্রদ নয়, বরং ‘হাইড্রোফ্র্যাকচারিং’ নামক এক বিপজ্জনক প্রক্রিয়ার প্রমাণ। সূর্যের তাপে বরফ গলে জল হচ্ছে এবং সেই জল হিমশৈলটির গভীর ফাটলে প্রবেশ করছে। এই জল কুড়ালের মতো কাজ করে ফাটলগুলোকে আরও চওড়া করে দিচ্ছে, যার ফলে ‘তুষার দানব’টি ভেতর থেকেই টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে।

আসন্ন বিপদ কী?

চিনা সংবাদমাধ্যম সতর্ক করেছে যে, এই প্রধান হিমশৈলটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে হাজার হাজার ছোট ছোট বরফের টুকরো সমুদ্রে ভেসে বেড়াবে। এগুলি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজগুলির জন্য ‘সাইলেন্ট কিলার’ বা নিঃশব্দ ঘাতক হয়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে অ্যান্টার্কটিকা উপকূল থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এই হিমশৈলটি এতটাই বিশাল ছিল যে এতে লন্ডন শহরকে দুবার বসিয়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু প্রকৃতির রোষে পড়ে বর্তমানে এটি তার আদি আয়তনের আট ভাগের এক ভাগও অবশিষ্ট নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *