লেটেস্ট নিউজ

ছেলের মৃত্যুর পর মোবাইলের বড় রহস্য ফাঁস করলেন বাবা, ডিলিট হওয়া তথ্য ফিরতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর সত্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

উত্তরপ্রদেশের আগ্রা জেলা থেকে একটি অবাক করা ঘটনা সামনে এসেছে। ছেলের মৃত্যুর পর এক বাবা এমন এক সত্য উদ্ঘাটন করেছেন, যা দেখে পুলিশও হতবাক। পুরো বিষয়টি একটি সাইবার ব্ল্যাকমেইলিং র‍্যাকেটের সঙ্গে জড়িত, যার জাল কয়েকশ কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ২১ বছর বয়সী বি.কম ছাত্র আকাশ সিংয়ের মৃত্যু হয়। পরিবার বুঝতে পারছিল না কেন সে এমন চরম পদক্ষেপ নিল। বাবা সুখবীর সিংয়ের মনে তখনই সন্দেহের দানা বাঁধে, যখন তিনি জানতে পারেন যে মৃত্যুর আগে আকাশ তার মোবাইল ফোনের সমস্ত তথ্য বা ডাটা ডিলিট করে দিয়েছিল। ফোনটি দেখে মনে হচ্ছিল সেটি পুরোপুরি রিসেট করা হয়েছে। এতেই বাবার মনে হয় যে বিষয়টি স্বাভাবিক নয়।

বাবা যেভাবে রহস্য ফাঁস করলেন

সুখবীর সিং ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষ। তিনি নিজের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ব্যবহার করে মোবাইল ফোনের ডিলিট হওয়া ডাটা রিকভার (পুনরুদ্ধার) করেন। ডাটা সামনে আসতেই উঠে আসে চমকপ্রদ তথ্য— তার ছেলেকে ক্রমাগত অনলাইনে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছিল। মোবাইলে বেশ কিছু চ্যাট, কল রেকর্ড এবং বিকৃত (Morphed) ছবি পাওয়া যায়। সেই ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল আকাশকে। এরপরই পরিবার পুলিশের দ্বারস্থ হয়। ২৮ অক্টোবর হাথরস গেট থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল ছাত্রটিকে

এসপি চিরঞ্জীব নাথ সিনহার মতে, অভিযুক্তরা এক বৃদ্ধ ব্যক্তির মোবাইল নম্বর ক্লোন করেছিল। সেই নম্বর থেকে যোগাযোগ করেই ছাত্রটিকে ফাঁদে ফেলা হয়। আকাশের কাছ থেকে চার কিস্তিতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। টাকা না দিলে ছবি প্রকাশ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। ক্রমাগত এই চাপের কারণে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল।

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেপ্তার

  • কয়েক মাস ধরে বিষয়টির প্রযুক্তিগত তদন্ত চলে।
  • ডিজিটাল তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন ট্র্যাক করা হয়।
  • নজরদারির (Surveillance) মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

তদন্তের পর মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজি নগর জেলা থেকে রোহান বিহারীলাল সোনवणे এবং করণ রাজেন্দ্র চিন্দালিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপে ভার্চুয়াল নম্বর ব্যবহার করে মহিলা সেজে মানুষকে ফাঁদে ফেলত এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করত। গ্যাংয়ের বাকি সদস্যদের খোঁজে পুলিশের একটি দল পুনেতেও পাঠানো হয়েছে।

সাইবার অপরাধ নিয়ে সতর্ক হোন

পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ধরনের পরিস্থিতিতে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে ভিডিও কল বা ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। কোনো ধরনের অনলাইন হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হলে অবিলম্বে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *