জল জীবন মিশনের রিপোর্টে উদ্বেগের তথ্য: প্রতি চারটি গ্রামীণ সংযোগের একটির জল অনিরাপদ
জল শক্তি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের ৮১.৬ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারে নল-জল সংযোগ পৌঁছালেও জলের গুণমান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় রিপোর্টে দেখা গেছে, গৃহস্থালির নমুনার প্রায় ২৪ শতাংশ মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। অথচ ৯২.৪ শতাংশ পরিবার এই জলের গুণমান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে, যা জনসচেতনতার অভাবকে প্রতিফলিত করে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ গ্রামীণ পরিবার জল পানের আগে কোনো পরিশোধন পদ্ধতি ব্যবহার করে না। এর ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও কলেরার মতো পানীয় জলবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। এমনকি স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মতো জনপরিষেবা কেন্দ্রগুলিতেও জলের পাসের হার মাত্র ৭৩ শতাংশ, যা শিশু ও রোগীদের স্বাস্থ্যের জন্য সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রিপোর্টে পরিকাঠামোগত খামতিও স্পষ্ট হয়েছে। প্রায় ৭৩ শতাংশ গ্রামে ফিল্ড টেস্ট কিট নেই এবং অনেক রাজ্যে জলের গুণমান জাতীয় গড়ের নিচে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইপলাইনের সংযোগ বৃদ্ধি পেলেও নিয়মিত জল পরীক্ষা, সঠিক ক্লোরিনেশন এবং দক্ষ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না গেলে প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। নিরাপদ জল নিশ্চিতে জনসক্রিয়তা এখন সময়ের দাবি।

