জাতিগত আদমশুমারি এবং ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ: নীতিন নবীনের জন্য “কাঁটার মুকুট” – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিজেপির সাংগঠনিক রদবদল এখন অন্তিম পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০শে জানুয়ারি দলের পূর্ণকালীন জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন ৪৫ বছর বয়সী নীতিন নবীন। বিজেপির ইতিহাসে তিনিই হতে চলেছেন সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি। তবে এই সিংহাসন তাঁর জন্য খুব একটা কুসুমাস্তীর্ণ হবে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মোদী-শাহের আস্থায় রাজ্যাভিষেক
নীতিন নবীনের মনোনয়নকে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতি এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অবিচল আস্থার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকবেন। মনোনয়নপত্রের প্রথম সেটে স্বাক্ষর করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং এবং জেপি নাড্ডার মতো মহীরুহরা। ১৯ ও ২০ জানুয়ারি দিল্লির সদর দপ্তরে বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও জাতীয় পদাধিকারীদের উপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
২০২৯-এর রোডম্যাপ ও আগামীর কাঁটা
নীতিন নবীনের তিন বছরের কার্যকাল হবে ‘মিশন ২০২৯’-এর ভিত্তিপ্রস্তর। তবে তাঁর পথে রয়েছে একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জ:
- বঙ্গের লড়াই ও দক্ষিণী চ্যালেঞ্জ: ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিধানসভা নির্বাচন নবীনের বড় পরীক্ষা। একদিকে মমতার দুর্গে হানা দেওয়া, অন্যদিকে আসামে ক্ষমতা ধরে রাখা—দুটোই সমান কঠিন। পাশাপাশি তামিলনাড়ু ও কেরালায় দলকে কেবল ক্যাডার ভিত্তিক নয়, ভোটার ভিত্তিক করার দায়িত্বও তাঁর কাঁধে।
- সীমানা নির্ধারণ ও মহিলা সংরক্ষণ: ২০২৭ সালের আদমশুমারির পর লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা নির্ধারণ উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলবে। এছাড়া ৩৩% মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রকৃত নারী নেতৃত্বকে তুলে আনা নবীনের জন্য নৈতিক চ্যালেঞ্জ।
- জাতিগত আদমশুমারি ও সামাজিক সমীকরণ: ওবিসি ও দলিত ভোট ব্যাংক ধরে রাখার পাশাপাশি উচ্চবর্ণের সমর্থন বজায় রাখা হবে বড় পরীক্ষা। ২০২৭-এর আদমশুমারিতে জাতিগত গণনা যুক্ত হলে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হবে, তা সামলানোই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
- এক জাতি, এক নির্বাচন: এই আইন কার্যকর হলে গোটা দেশে একসাথে হাজার হাজার আসনে লড়াই করার জন্য দলের যন্ত্রপাতিতে শান দিতে হবে নবীনকে।
- স্বজনপ্রীতি মুক্ত রাজনীতি: মোদীর স্বপ্ন অনুযায়ী রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডহীন ১ লক্ষ তরুণকে মূল স্রোতে নিয়ে আসা তাঁর অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। দলের ভেতর থেকে ‘পরিবারতন্ত্র’ দূর করার গুরুদায়িত্ব এখন এই কনিষ্ঠতম সেনাপতির ওপর।

