‘জাতের দেওয়াল’ ভাঙার নির্দেশে সুপ্রিম স্থগিতাদেশ: বিজেপি বলছে ‘সনাতনের জয়’, পালটা সরব বিরোধীরা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সুপ্রিম কোর্টের একটি বড় রায়ে আপাতত স্থগিত হয়ে গেল ইউজিসি (UGC) প্রবর্তিত ২০২৬ সালের নতুন নিয়মাবলী। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্য রোধে আনা এই নিয়মের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতিরা। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানিয়েছে, এই নিয়মের শব্দচয়ন অস্পষ্ট, যা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে। আদালতের মতে, ২০১২ সালের নিয়ম থাকা সত্ত্বেও কেন নতুন সংজ্ঞার প্রয়োজন হলো, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
রাজনৈতিক উত্তাপ: পক্ষে-বিপক্ষে তপ্ত ময়দান
এই রায় আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিজেপি বিষয়টিকে ‘সাংস্কৃতিক জয়’ হিসেবে দেখছে, যেখানে কংগ্রেস ও বিরোধী শিবির একে সরকারি কৌশল বলে মনে করছে।
বিজেপি-র প্রতিক্রিয়া: “সংবিধান ও ঐক্যের জয়”
বিজেপি নেতারা এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে এটিকে ভারতের অখণ্ডতার জয় বলে দাবি করেছেন।
- গিরিরাজ সিং: এই সিদ্ধান্ত ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও সনাতন মূল্যবোধ রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।
- নিশিকান্ত দুবে: সংবিধানের ১৪ ও ১৫ নম্বর ধারাই চূড়ান্ত, এখানে বিভাজনের কোনো জায়গা নেই।
- বজ্রভূষণ শরণ সিং: নতুন নিয়মগুলি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল, আদালত বড় সংঘাত রুখে দিয়েছে।
বিরোধীদের তোপ: “আসল ইস্যু থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা”
বিরোধীদের মধ্যে এই নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও কংগ্রেস সরাসরি মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছে।
- কংগ্রেস (রঞ্জিত রঞ্জন ও প্রমোদ তিওয়ারি): মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্বের মতো আসল সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই সরকার এমন সংবেদনশীল বিতর্ক তৈরি করছে।
- অখিলেশ যাদব (সপা): আইনের উদ্দেশ্য সবসময় স্বচ্ছ হওয়া উচিত যাতে কারও প্রতি অন্যায় না হয়।
- মায়াবতী (বসপা): ইউজিসি অংশীদারদের সঙ্গে কথা না বলে এই নিয়ম আনায় সামাজিক উত্তেজনা বাড়ছিল, তাই কোর্টের রায় সঠিক।
- মনোজ ঝা (আরজেডি): একে সরাসরি নির্বাচনী ‘জুমলা’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত ২০১২ সালের পুরনো নিয়মই কার্যকর থাকছে। আগামী ১৯ মার্চ ২০২৬-এ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ও ইউজিসি-কে জানাতে হবে ঠিক কী কারণে এই নতুন নিয়মাবলী আনার প্রয়োজন হয়েছিল।

