ঝাড়খণ্ডের জঙ্গল থেকে উদ্ধার চাঞ্চল্যকর তথ্য, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনায় পর্দাফাঁস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলায় ভেঙে পড়া এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার বিস্ফোরক তথ্য হাতে এল তদন্তকারীদের। রাঁচি থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে সোমবার সন্ধ্যায় যে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল, তার নেপথ্যে স্রেফ আবহাওয়া নয়, বরং পরিকাঠামোগত বড়সড় গাফিলতির ইঙ্গিত পাচ্ছে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ভেঙে পড়া ওই বিমানটিতে কোনও ব্ল্যাক বক্স ছিল না। সাধারণত যে কোনও বিমান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে এই ব্ল্যাক বক্স বা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু এই বিমানে সেই সুরক্ষা কবচ না থাকায় দুর্ঘটনার মুহূর্তের তথ্য পাওয়া এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে যে, এই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি দীর্ঘ চার বছর ধরে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। দীর্ঘদিন অকেজো হয়ে পড়ে থাকা একটি বিমানকে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া কীভাবে ওড়ার অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচি বিমানবন্দর থেকে সাতজন আরোহীকে নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি। ওড়ার কিছুক্ষণ পরেই, সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর সঙ্গে বিমানটির যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চাতরা জেলার সিমারিয়া থানা এলাকার করমতান্দ গ্রামের কাছে ঘন জঙ্গলে আছড়ে পড়ে বিমানটি। দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত করে রাঁচি বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, সেই সময় আকাশ অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ ছিল এবং দৃশ্যমানতাও কম ছিল।
তদন্তের মূল অভিমুখ
- ব্ল্যাক বক্সের অনুপস্থিতি: কেন একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে ব্ল্যাক বক্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র ছিল না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
- দীর্ঘদিনের অব্যবহার: চার বছর বসে থাকা বিমানটি ওড়ার উপযুক্ত বা ‘ফিট’ ছিল কি না, তা নিয়ে নথিপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে।
- আবহাওয়ার প্রভাব: প্রাথমিকভাবে খারাপ আবহাওয়াকে দায়ী করা হলেও কারিগরি ত্রুটির সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না তদন্তকারী দল।
ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালিয়েছে। তবে তদন্তকারীদের মতে, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং পরিকাঠামোগত উদাসীনতার এই নতুন তথ্য পুরো মামলাটিকে অন্যদিকে মোড় দিতে পারে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে এই চরম গাফিলতির দায় কার, এখন সেটাই দেখার।

