ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসে বিদ্রোহ! নিজেদের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেই রাহুল গান্ধীর কাছে নালিশ বিধায়কদের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ঝাড়খণ্ডে জেএমএম-কংগ্রেস জোট সরকার আপাতদৃষ্টিতে স্থিতিশীল মনে হলেও, কংগ্রেস সংগঠনের অন্দরেই চরম অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। দলের কোটা থেকে মন্ত্রী হওয়া নেতাদের কার্যশৈলী নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন বিধায়ক।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে উঠেছে যে, পাঁচজন কংগ্রেস বিধায়ক সরাসরি দিল্লিতে দরবার করেছেন এবং দলীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। বিধায়কদের অভিযোগ, মন্ত্রীদের উদাসীনতার কারণে শুধু যে তাঁদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন থমকে যাচ্ছে তাই নয়, এর ফলে দলের তৃণমূল স্তরের ভিতও দুর্বল হচ্ছে।
কারা এই ক্ষুব্ধ কংগ্রেস বিধায়ক?
দিল্লিতে গিয়ে হাইকম্যান্ডের সঙ্গে দেখা করা বিধায়কদের মধ্যে রয়েছেন:
- রাজেশ কশ্যপ (কংগ্রেস বিধায়ক দলের উপনেতা)
- নমন বিক্সল কোঙ্গাড়ি
- সুরেশ বৈঠা (কাঁকে-র বিধায়ক)
- সোনা রাম সিনকু
- ভূষণ বারলা
এই বিধায়করা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, কংগ্রেস কোটার মন্ত্রীরা জনপ্রতিনিধিদের কথা শুনছেন না এবং কর্মী ও সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধানেও কোনো গুরুত্ব দিচ্ছেন না।
অভিযোগ গুরুতর, মন্ত্রীদের দিল্লিতে তলব
বিধায়কদের এই অসন্তোষকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড সরকারের কংগ্রেস কোটার চার মন্ত্রী—রাধাকৃষ্ণ কিশোর, ডঃ ইরফান আনসারি, দীপিকা পাণ্ডে সিং এবং শিল্পী নেহা তিরকিকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। জানা গেছে, ২৮ জানুয়ারি (বুধবার) রাহুল গান্ধী স্বয়ং এই মন্ত্রীদের এবং বরিষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।
‘সংগঠনের উপরে কেউ নয়’
দিল্লি থেকে ফেরার পর বিধায়ক দলের উপনেতা রাজেশ কশ্যপ কড়া ভাষায় বলেন, “সংগঠনের চেয়ে বড় কেউ নয়। সংগঠন শক্তিশালী হলে তবেই সরকার এবং মন্ত্রীরা শক্তিশালী থাকবেন। বর্তমান অবস্থা এমন যে নিজেদের বিধায়কদের কাজই হচ্ছে না, ফলে কর্মী ও সাধারণ মানুষ উভয়েই ক্ষুব্ধ। দল যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তাই আমরা হাইকম্যান্ডকে প্রকৃত সত্য জানিয়েছি।”
উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যাওয়ার অভিযোগ
কাঁকে-র বিধায়ক সুরেশ বৈঠাও মন্ত্রীদের কাজের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “এটি কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং রাজ্য ও জনগণের স্বার্থের বিষয়। কৃষি, সড়ক, নিকাশি ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে কাজ থমকে আছে। আলোচনার সময় চাইলে শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হয়। আমরা হাইকম্যান্ডকে আয়না দেখানোর কাজ করেছি।” তিনি আরও জানান, দলীয় নেতৃত্ব আশ্বাস দিয়েছেন যে মন্ত্রীদের পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখা হবে এবং সেই ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নজর এখন দিল্লির বৈঠকের দিকে
ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসে দেখা দেওয়া এই অভ্যন্তরীণ কলহ জোট সরকারের জন্যও এক প্রকার সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন সবার নজর দিল্লির সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে। ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির জন্য আগামী দিনগুলো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।

