ট্যাক্স বাঁচিয়েও শেষ রক্ষা নেই! বিনিয়োগের আড়ালে লুকিয়ে থাকা যে খরচ আপনার পকেট ফাঁকা করছে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিনিয়োগ মানেই কেবল ট্যাক্স বাঁচানো বা মোটা অঙ্কের রিটার্ন নয়। অনেক সময় কর সাশ্রয় করতে গিয়ে বিনিয়োগকারীরা এমন কিছু ‘হিডেন কস্ট’ বা লুকানো খরচের জালে জড়িয়ে পড়েন, যা দীর্ঘমেয়াদে লাভের গুড় পিঁপড়েয় খাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি করে। জেনে নিন কীভাবে নিঃশব্দে আপনার জমানো সম্পদ কমে যাচ্ছে।
১. লেনদেনের আড়ালে বড় কোপ
ইক্যুইটি শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের সময় প্রতিটি লেনদেনে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স (STT) দিতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় স্ট্যাম্প ডিউটি ও ট্রানজ্যাকশন চার্জ। যারা ঘন ঘন শেয়ার কেনাবেচা করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ছোট ছোট খরচগুলোই শেষে বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
২. মিউচুয়াল ফান্ডের ‘এক্সিট লোড’ ও ‘এক্সপেন্স রেশিও’
মিউচুয়াল ফান্ড থেকে নির্দিষ্ট সময়ের আগে টাকা তুললে ১ শতাংশ পর্যন্ত এক্সিট লোড বা জরিমানা দিতে হতে পারে। অন্যদিকে, ফান্ডের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বা এক্সপেন্স রেশিও সরাসরি আপনার এনএভি (NAV) থেকে কেটে নেওয়া হয়। শুনতে সামান্য মনে হলেও ১৫-২০ বছরের ব্যবধানে এই ১-২ শতাংশ খরচই আপনার কয়েক লক্ষ টাকার সম্পদ কমিয়ে দিতে পারে।
৩. ঋণ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ
হোম লোনের ক্ষেত্রে প্রিপেমেন্ট চার্জ থাকলে তা সুদের ট্যাক্স সুবিধাকে ম্লান করে দেয়। এছাড়া ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট বা পিএমএস-এর বার্ষিক মেইনটেন্যান্স চার্জ (AMC) নিয়মিত আপনার পোর্টফোলিও থেকে টাকা কমিয়ে দিচ্ছে।
৪. বিদেশি বিনিয়োগের ঝুঁকি
বিদেশের বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ফোরেক্স কনভার্সন ফি এবং রেমিট্যান্স চার্জ অনেক সময় ডাইভার্সিফিকেশনের লাভকেও ছাপিয়ে যায়। মুদ্রা বিনিময়ের এই বাড়তি খরচ বিনিয়োগের আসল উদ্দেশ্যই নষ্ট করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
সিএ সুরেশ সুরানা এবং অধ্যাপক রামাভদ্রন থিরুমালাইয়ের মতে, শুধু ট্যাক্স বাঁচানোই শেষ কথা নয়, সব খরচ বাদ দিয়ে হাতে কত টাকা থাকছে সেটাই আসল।
- সমাধান: ঘন ঘন কেনাবেচা বন্ধ করুন। বিনিয়োগের আগে এক্সপেন্স রেশিও তুলনা করুন এবং এক্সিট লোড বা অন্যান্য শর্তগুলো ভালো করে পড়ে নিন। মনে রাখবেন, রিটার্ন যেমন বাড়ে, বিনিয়োগের খরচও কিন্তু সময়ের সাথে কম্পাউন্ড হয়।

