ট্রাম্পের ট্যারিফ-অস্থিরতায় বিভ্রান্তি, মার্কিন আদালতের হস্তক্ষেপে ভারতের রফতানি শুল্কে বড় রদবদল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের খামখেয়ালি শুল্ক নীতির জেরে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কখনও ২৫%, কখনও ৫০%, আবার কখনও ১৮%—এভাবে বারবার শুল্কের হার পরিবর্তন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খোদ মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে এমন উচ্চহারে শুল্ক চাপাতে পারেন না। আদালতের এই হস্তক্ষেপে ট্রাম্পের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তগুলোর আইনি ভিত্তি এখন প্রশ্নের মুখে।
বিচারবিভাগীয় এই ধাক্কার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন আইনের ১২২ নম্বর ধারা ব্যবহার করে নতুন করে ১০% ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ ঘোষণা করেছেন। এর ফলে ভারতের ওপর কার্যকরী মোট শুল্কের হার নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ স্ট্যাটাস অনুযায়ী মূল ৩.৫% শুল্কের সাথে এই নতুন ১০% যুক্ত হয়ে মোট করের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৩.৫%। তবে হোয়াইট হাউস ও ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে প্রকৃত হার নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি।
এই শুল্ক বিভ্রাটের ফলে ভারতের রফতানি বাণিজ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। বারবার শুল্ক পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপাতত মার্কিন কংগ্রেসের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো বাণিজ্য চুক্তির ওপরই ভারতের রফতানি ভাগ্যের চূড়ান্ত ফয়সালা নির্ভর করছে।

