লেটেস্ট নিউজ

ট্রাম্পের ট্যারিফ যুদ্ধে ভারত কি পালটা চাল চালবে? পিয়ূষ গোয়েলের বড় বয়ানে তোলপাড় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক

আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ বা শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পালটা কি এবার ভারতও বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে চলেছে? মার্কিন Supreme \titleonly কোর্টের রায়ের পর যখন বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রী পিয়ূষ গোয়েলের এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উসকে দিল। শুক্রবার পিয়ূষ গোয়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি বদলালে এবং ভারতের স্বার্থ বিঘ্নিত হলে আমেরিকার সঙ্গে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি বা ট্রেড ডিল ‘রিব্যালেন্স’ বা পুনর্বিবেচনা করতে ভারত বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

ট্যারিফ নিয়ে সংঘাতের আবহ

উল্লেখ্য, গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন Supreme \titleonly কোর্টে আইনি ধাক্কা খাওয়ার ঠিক একদিন পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্ত বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা করেন। ট্রাম্পের এই আগ্রাসী পদক্ষেপে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেই পিয়ূষ গোয়েল জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে যে যৌথ বিবৃতি জারি হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট একটি শর্ত ছিল। শর্তটি হলো, যদি কোনো দেশ চুক্তির বাইরে গিয়ে ট্যারিফ পরিবর্তন করে, তবে অপর পক্ষও নিজের প্রতিশ্রুতি বা বাণিজ্যিক সুবিধা পরিবর্তনের অধিকার রাখবে। অর্থাৎ, ট্রাম্প যদি একতরফাভাবে শুল্ক বাড়ান, তবে ভারতও নিজের স্বার্থ রক্ষায় আমেরিকার জন্য নির্ধারিত সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে ভারসাম্য বজায় রাখবে।

কৃষক ও দুগ্ধ খামারিদের জন্য স্বস্তির খবর

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের সাধারণ মানুষের মনে সবথেকে বড় ভয় ছিল মার্কিন কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত সামগ্রী নিয়ে। পিয়ূষ গোয়েল এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের কৃষক ও দুগ্ধ উৎপাদনকারীদের স্বার্থে কোনো আপস করা হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কোনোভাবেই ভারতে ‘জেনেটিক্যালি মডিফাইড’ বা জিএম ফুড প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ভুট্টা, সয়াবিন এবং পোল্ট্রি শিল্পকেও এই চুক্তির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে মার্কিন পণ্যের বন্যায় দেশীয় বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যে আশঙ্কা ছিল, তা একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী।

ভবিষ্যৎ কোন দিকে

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মূলত ‘কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ’ বা প্রতিযোগিতামূলক সুবিধার ওপর ভিত্তি করে চলে। পিয়ূষ গোয়েলের মতে, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তিতে অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে ভারত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী পদক্ষেপের ওপর নজর রাখছে দিল্লি। যদি ওয়াশিংটন তার জেদ বজায় রাখে, তবে ভারতও যে বাণিজ্যিকভাবে কড়া পালটা জবাব দিতে প্রস্তুত, তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই ‘রিব্যালেন্সিং’ তত্ত্বেই পরিষ্কার হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *