ট্রাম্প: ‘শান্তির বোর্ড’ নিয়ে শীর্ষ ক্ষমতাধরদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ কী? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
গাজা ভূখণ্ডের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘পিস বোর্ড’ বা শান্তি বোর্ডকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৫০টি রাষ্ট্রকে এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও প্রভাবশালী দেশগুলোর পারস্পরিক বিরোধে পরিস্থিতি এখন জটিল আকার ধারণ করেছে।
বিভক্ত বিশ্বশক্তি: কে পক্ষে, কে বিপক্ষে?
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবিত বোর্ডে ভারত, রাশিয়া, ফ্রান্সের মতো বৃহৎ শক্তির পাশাপাশি প্রধান মুসলিম দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে সদস্যপদ নিয়ে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন রশি টানাটানি:
- সমর্থনের পাল্লা: সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, তুরস্ক এবং হাঙ্গেরি সহ মোট ৩৫টি দেশ ইতিমধ্যে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে। প্রাথমিক আপত্তি থাকলেও ইসরায়েল বুধবার সরকারিভাবে এই উদ্যোগে শামিল হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
- রাশিয়ার ধোঁয়াশা: দাভোস সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে পুতিন এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। তবে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ক্রেমলিন এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি।
- ইউরোপের বিদ্রোহ: ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সম্মিলিতভাবে এই বোর্ডের বিরোধিতা করছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করে সরাসরি যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন।
শুল্ক যুদ্ধ ও ভূ-রাজনীতি
ফ্রান্সের এই বিরোধিতায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ফরাসি ওয়াইন এবং শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, আমেরিকার ‘গ্রিনল্যান্ড’ দখলের প্রচ্ছন্ন হুমকির প্রতিবাদেই ফ্রান্স ট্রাম্পের এই শান্তি পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
অন্যদিকে, ইতালি বিষয়টিকে অত্যন্ত ‘জটিল ও সমস্যাযুক্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছে। জার্মানি এবং ব্রিটেন এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি, তবে ইইউ-এর দেশগুলোর মধ্যে ট্রাম্পের একতরফা আধিপত্য নিয়ে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধছে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই ‘শান্তির বোর্ড’ বিশ্বশক্তিগুলোকে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কিনারে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

