ডাব না কি আখের রস? গরমের তৃষ্ণায় কোনটা সেরা এবং কাদের জন্য ক্ষতিকর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। সূর্যের প্রখর তাপে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ছে এবং দেখা দিচ্ছে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে প্রকৃতির দেওয়া দুটি সেরা পানীয় হলো ডাবের জল এবং আখের রস। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শরীর ঠান্ডা রাখতে এবং সুস্থ থাকতে এই দুটির মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকর? জেনে নিন বিস্তারিত।
ডাবের জল কেন খাবেন
ডাবের জলকে বলা হয় প্রকৃতির ‘ন্যাচারাল স্যালাইন’। এতে ক্যালোরি অত্যন্ত কম কিন্তু পুষ্টিগুণ ভরপুর।
- প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইট: এতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ক্যালসিয়াম থাকে যা শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: উচ্চ রক্তচাপ বা বিপি নিয়ন্ত্রণে ডাবের জল অত্যন্ত কার্যকরী।
- হজম ও ওজন হ্রাস: এটি হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য এটি আদর্শ পানীয়।
আখের রসের গুণাগুণ
প্রচণ্ড রোদে ঘোরার পর শরীরে যখন এনার্জির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন আখের রস তাৎক্ষণিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।
- ইনস্ট্যান্ট এনার্জি: এতে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মতো প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় এটি খাওয়ার সাথে সাথেই শরীরে শক্তি ফিরে আসে।
- লিভারের সুরক্ষা: আখের রস লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
ডাব বনাম আখের রস: মূল পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | ডাবের জল | আখের রস |
| ক্যালোরি | খুব কম | অনেক বেশি |
| শর্করার পরিমাণ | সামান্য | অধিক |
| ইলেকট্রোলাইট | প্রচুর | মাঝারি |
| ওজন কমানোর জন্য | সেরা বিকল্প | খুব একটা উপযোগী নয় |
কিছু জরুরি সতর্কতা
- ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য: আখের রসে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে, তাই মধুমেহ বা ডায়াবেটিস রোগীদের এটি এড়িয়ে চলাই ভালো। তাদের জন্য ডাবের জলই সবচেয়ে নিরাপদ।
- পরিচ্ছন্নতা: আখের রস খাওয়ার সময় রাস্তার ধারের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি, নাহলে সংক্রমণের ভয় থাকে।
- ওজন বৃদ্ধি: প্রতিদিন অতিরিক্ত আখের রস খেলে শরীরে ক্যালোরি বেড়ে গিয়ে ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আপনি যদি কেবল স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে তৃষ্ণা মেটাতে চান, তবে ডাবের জলই সেরা পছন্দ। তবে রোদে পুড়ে কাজ করার পর যদি শরীরে চরম ক্লান্তি আসে এবং তাৎক্ষণিক শক্তির প্রয়োজন হয়, সেক্ষেত্রে আখের রস বেছে নিতে পারেন। তবে নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তবেই খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন আনুন।

