ডিএ মেটাতে কেন গড়িমসি মমতা সরকারের? বকেয়া আদায়ের হুঙ্কারে অবরুদ্ধ ধর্মতলা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: Supreme \titleonly কোর্টের কড়া নির্দেশের পরেও কেন মিলছে না বকেয়া মহার্ঘ ভাতা? এই প্রশ্ন তুলেই বুধবার ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল তিলোত্তমার রাজপথ। বকেয়া ডিএ (DA) কার্যকর করার দাবিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চসহ একাধিক সরকারি কর্মী সংগঠনের ডাকে আয়োজিত মহামিছিলে কার্যত স্তব্ধ হয়ে গেল মধ্য কলকাতা। মেট্রো চ্যানেল থেকে কালীঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত এই মিছিলে শামিল হয়েছিলেন কয়েক হাজার সরকারি কর্মচারী, যার জেরে ধর্মতলা চত্বরে যান চলাচল সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
রাজপথে কর্মীদের জনস্রোত ও আন্দোলনের তীব্রতা
এদিন দুপুর গড়াতেই কলকাতার রাজপথ দখল করে নেন আন্দোলনকারীরা। ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে স্লোগানে মুখরিত হয় আকাশ-বাতাস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সকাল থেকেই বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, তবে কর্মীদের জেদের কাছে কার্যত নতিস্বীকার করতে হয় প্রশাসনকে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, Supreme \titleonly কোর্টের ৫ ফেব্রুয়ারির রায়কে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে রাজ্য সরকার। আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই আন্দোলনের আগুন রাজ্যের কোণায় কোণায় ছড়িয়ে পড়বে।
আইনি লড়াই বনাম রাজপথের সংগ্রাম
ডিএ মামলা নিয়ে Supreme \titleonly কোর্টের রায়ের পর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছে কর্মী সংগঠনগুলো। সিপিআই(এম) সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “Supreme \titleonly কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তাই আমরা শুধু আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকব না, রাজপথেই ফয়সালা হবে।”
শুভেন্দুর কটাক্ষ ও মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা
গোটা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিএ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে বিষয়টিকে ‘বিচারাধীন’ বা সাব-জুডিস বলে এড়িয়ে গেলেও, তা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার প্রশ্ন, “দেশের সর্বোচ্চ আদালত রায় ঘোষণা করে দেওয়ার পর রাজ্য সরকার কোন যুক্তিতে একে বিচারাধীন বলছে?” বিরোধীদের দাবি, রাজ্য সরকার আসলে সময় নষ্ট করে কর্মীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে।
নিয়োগ ও শূন্যপদ নিয়ে জোড়া দাবি
এদিনের আন্দোলন শুধুমাত্র ডিএ-তে সীমাবদ্ধ ছিল না। মহার্ঘ ভাতার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে পড়ে থাকা প্রায় ৬ লক্ষ শূন্যপদ অবিলম্বে পূরণের দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং যোগ্য প্রার্থীরা রাস্তায় ঘুরছেন। পুলিশের কড়া পাহারায় বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না।

