লেটেস্ট নিউজ

তাসের ঘরের মতো ধসে পড়বে হিমবাহ! সিকিমে ভয়ঙ্কর বিপদের অ্যালার্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গ্যাংটক: লোনাক লেক বিপর্যয়ের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও টাটকা। তার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বড়সড় বিপদের মুখে সিকিম। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাথুলা, জুলুক ও নাথাং ভ্যালিতে আছড়ে পড়তে পারে বিশালাকার হিমবাহ। প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (DRDE) এবং সিকিম বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের এই পূর্বাভাসে হাড়হিম করা আতঙ্ক ছড়িয়েছে পাহাড়জুড়ে।

প্রকৃতির তাণ্ডবে পর্যটকরা বন্দি

প্রবল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা আর বিপরীত ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফলায় সিকিম ও দার্জিলিংয়ের আবহাওয়া কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নিয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে লাচুং, লাচেন ও সান্দাকফুর মতো এলাকায় শুরু হয়েছে ভারী তুষারপাত। বরফের পুরু চাদরে রাস্তা ঢেকে যাওয়ায় সান্দাকফুতে আটকে পড়েছেন অন্তত ৫০ জন পর্যটক। প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব নয়।

কেন এই আকস্মিক সতর্কতা?

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্প এবং পাহাড়ে সক্রিয় হওয়া পশ্চিমী ঝঞ্ঝার সংঘর্ষেই তৈরি হয়েছে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। এর ফলে হিমবাহের স্থায়িত্ব আলগা হয়ে ধস নামার উপক্রম হয়েছে। নাথুলা সংলগ্ন সেনা ছাউনি এবং নাথাং ভ্যালির জনবসতিপূর্ণ গ্রামগুলোতে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

প্রস্তুত সেনা ও প্রশাসন

যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সিকিম ও পাকিয়ং জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ইতিমধ্যেই দুর্গম এলাকাগুলোর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। পর্যটকদের জন্য জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার দুপুরের পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে। তবে সোমবারের আগে সান্দাকফু থেকে পর্যটকদের নামিয়ে আনা প্রায় আসাম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *