তৃণমূলের ‘নিশ্চিন্ত’ ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাবেন শুভেন্দু? মেদিনীপুরের নেতার বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় বাংলা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 27, 202610:05 am
নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের আভাস মিলছে। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার সরাসরি হাত বাড়াতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে সুরক্ষিত দুর্গ হিসেবে পরিচিত ‘সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে’। শুভেন্দুর দাবি, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের এই একচেটিয়া আধিপত্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।
বিজেপির নতুন কৌশল ও শুভেন্দুর ভবিষ্যৎবাণী
বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, আগামী নির্বাচনে প্রতিটি সংখ্যালঘু প্রধান বুথে হারের মুখ দেখবে তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর মতে, পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নেই। শুভেন্দুর কথায়, “হিন্দু ভোট তো আগেই বিজেপির দিকে সংহত হয়েছে, এবার পালা সংখ্যালঘুদের। শুধুমাত্র বিজেপি নয়, সিপিএম এবং আইএসএফ-এর মতো দলগুলোও তৃণমূলের ভোট কাটবে। ফলে প্রতিটি সংখ্যালঘু বুথে ভরাডুবি হবে শাসকদলের।”
একইসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিরোধী দলনেতা জানান, তিনি কখনোই বলেননি যে তাঁর মুসলিম ভোটের প্রয়োজন নেই। বরং তিনি বাস্তব পরিস্থিতিটাই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীক ভট্টাচার্য বঙ্গ বিজেপির সভাপতি হওয়ার পর থেকেই সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রতি দলের মনোভাবে একপ্রকার নমনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুভেন্দুর সাম্প্রতিক বয়ান সেই পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূলের পাল্টা তোপ
শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবিকে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। শাসকদলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষ কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, “বিজেপির এই সংখ্যালঘু প্রেম আসলে নির্বাচনী গিমিক ছাড়া আর কিছুই নয়। কিছুদিন আগেই যারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে মেরুকরণের রাজনীতি করছিল, ভোট আসতেই তারা এখন অন্য সুর গাইছে। বাংলার মানুষ বিভাজনের এই রাজনীতি ধরে ফেলেছে।”
রাজনৈতিক সমীকরণ ও বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ এবং কৌশলী বয়ান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিজেপি এবার বাংলার মাটিতে তাদের পুরনো ছক বদলাতে চলেছে। শুধুমাত্র মেরুকরণ নয়, বরং তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে সরাসরি ভাগ বসিয়ে শাসকদলকে কোণঠাসা করাই এখন পদ্ম শিবিরের মূল লক্ষ্য। সত্যিই কি সংখ্যালঘু ভোটাররা তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন? নাকি শুভেন্দুর এই দাবি কেবলই মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল? উত্তর মিলবে ভোটবাক্সেই।

