দল বদলের ম্যারাথন শেষে নিজের দলেই ‘নির্দল’! কী খেলছেন এই ভোট মাস্টারমাইন্ড?
টানা দুই বছর মারণরোগের সাথে লড়াইয়ের পর ৭২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বাংলার প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। রবিবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। রাজনীতির ময়দানে অত্যন্ত চতুর কৌশলী হিসেবে পরিচিত এই নেতা বিগত বেশ কিছু সময় ধরে কার্যত কোমায় ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে রাজ্য রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বর্ণময় অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
ছাত্র রাজনীতিতে বামপন্থী সংগঠন এসএফআই-এর মাধ্যমে হাতেখড়ি হলেও মুকুল রায়ের উত্থান ঘটেছিল কংগ্রেসের হাত ধরে। পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ও দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। দীর্ঘ সময় তৃণমূলের ভোট কৌশলী হিসেবে কাজ করার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং গেরুয়া শিবিরের শক্তিবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নেন। শেষে পুনরায় তৃণমূলে ফিরলেও আইনি জটিলতায় খাতায়-কলমে তিনি বিজেপির বিধায়ক হিসেবেই থেকে যান।
ব্যক্তিজীবনে প্রবল ক্রিকেট অনুরাগী মুকুল রায় বিশ্বাস করতেন, রাজনীতিতেও ক্রিজে টিকে থাকলে রান আসবেই। সেই ধৈর্য ও বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়েই তিনি রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন এবং বহু কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ মিলিয়েছেন। সারদা মামলা থেকে শুরু করে একাধিক দলবদল—বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। তবে বাংলার পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে বিভিন্ন দলের ভাগ্য নির্ধারণে তাঁর ‘চাণক্য’ নীতি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

