দিঘার সমুদ্রে তলিয়ে যাচ্ছিলেন দাদু ও নাতনি, নুলিয়াদের তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা

টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক প্রয়াণের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তাল দিঘায় ফের বড়সড় দুর্ঘটনার হাতছানি। বুধবার সকালে ওল্ড দিঘার ক্ষণিকা ঘাটে স্নান করতে নেমে সমুদ্রের ঢেউয়ে তলিয়ে যাচ্ছিলেন দাদু ও নাতনি। তবে সৈকতে মোতায়েন থাকা নুলিয়াদের অসীম সাহসিকতা ও ক্ষিপ্রতায় শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচল তাঁদের। এই ঘটনায় মুহূর্তের জন্য সৈকতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড় থেকে একটি পরিবার ওল্ড দিঘায় ভ্রমণে এসেছিলেন। বুধবার সকালে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দাদু ও নাতনি সমুদ্রে নামেন। সেই সময় সমুদ্র আপাতদৃষ্টিতে শান্ত থাকলেও হঠাৎ জোয়ারের জল বাড়তে শুরু করে। প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুজনেই গভীর জলের দিকে ভেসে যেতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা চিৎকার শুরু করলে বিপদের গুরুত্ব বুঝে নুলিয়ারা তৎক্ষণাৎ দড়ি নিয়ে উত্তাল সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
বেশ কিছুটা দূরে ভেসে যাওয়া অবস্থায় নুলিয়ারা তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে সৈকতে ফিরিয়ে আনেন। ঢেউয়ের তোড়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁদের দ্রুত দিঘা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দাদু ও নাতনি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। অভিনেতার অকালমৃত্যুর স্মৃতি উসকে দেওয়া এই ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের তরফে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জোয়ারের সময় বা সমুদ্র উত্তাল থাকলে পর্যটকদের কোনোভাবেই জলে না নামার অনুরোধ জানিয়েছে দিঘা প্রশাসন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনা এড়াতে সৈকত সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সৈকতে মাইকিং করে নিরন্তর সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
