দিল্লি জামে মসজিদে ইমরান খানের অবিস্মরণীয় উপস্থিতি
২০০৪ সালের রমজান মাসের এক সন্ধ্যায় দিল্লির ঐতিহাসিক জামা মসজিদে মাগরিবের নামাজে শামিল হয়েছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খান। ইফতারের মুহূর্তে যখন রোজাদাররা উপবাস ভাঙছিলেন, তখন প্রিয় এই তারকাকে নিজেদের মাঝে দেখে উপস্থিত জনতার মধ্যে প্রবল উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তরা পরম আদরে তাঁদের ‘প্রিয় শত্রু’ ইমরানকে ঘিরে ধরেন এবং ফল ও খেজুর এগিয়ে দেন। জনসমুদ্রের দিকে তাকিয়ে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই মুহূর্তটি আজও অনেকের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।
ক্রিকেট মাঠে ইমরান খান ছিলেন এক অদম্য শক্তির নাম, যাঁর প্রবল ইচ্ছাশক্তি ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছিল। ওয়াসীম আকরাম ও ইনজামাম-উল-হকের মতো প্রতিভা খুঁজে বের করা এই অধিনায়ক বল হাতেও ছিলেন সমান ভয়ঙ্কর। ১৯৮২ সালের করাচি টেস্টে সুনীল গাভাসকর ও গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথদের পরাস্ত করে একাই ৮ উইকেট নিয়ে ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয় ঘটিয়েছিলেন তিনি। মাঠের আগ্রাসন আর ব্যক্তিগত জীবনের রাজকীয় আভিজাত্য তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিল।
সময়ের বিবর্তনে সেই গ্ল্যামার ও দাপট আজ শেক্সপিয়রীয় ট্র্যাজেডির মতো রূপ নিয়েছে। মাঠের সেই অপরাজেয় নায়ক বর্তমানে পাকিস্তানের নিঃসঙ্গ কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। ২০০৪ সালের সেই সন্ধ্যায় দিল্লির মসজিদে উপস্থিত থাকা সমাজকর্মী মহম্মদ তাকি আজও তাঁর জন্য প্রার্থনা করেন। রাজনীতির জটিল আবর্তে হারানো সেই ‘লাহোরি শাহেনশাহ’ আজ কেবল প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন, যেখানে স্টেডিয়ামের গগনবিদারী চিৎকার আর ভিড় আজ কেবলই সুদূর অতীত।

