দীর্ঘায়ুর রহস্য: আপনি কি একশ বছর বাঁচতে চান? এই ছোট্ট রহস্যটি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সুস্থভাবে ১০০ বছর বাঁচার স্বপ্ন আমাদের সবার। কিন্তু বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা, দূষণ আর মানসিক চাপে মানুষের গড় আয়ু যেন কমতে শুরু করেছে। অথচ সামান্য কিছু নিয়ম আর শৃঙ্খলা মানলে কোনো ওষুধ ছাড়াই শতায়ু হওয়া সম্ভব। ডেইলিহান্টের পাঠকদের জন্য দীর্ঘায়ুর সেই গোপন রহস্যগুলো তুলে ধরা হলো:
১. সঠিক খাদ্যাভ্যাসই আসল মহৌষধ
কথায় আছে, “যেমন অন্ন তেমন তনু”। আপনার শরীর কেমন থাকবে তা নির্ভর করে আপনি কী খাচ্ছেন তার ওপর। দীর্ঘায়ু পেতে ডায়েটে রাখুন:
- সবুজ শাকসবজি ও তাজা ফলমূল: এগুলো শরীরে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জোগান দেয়।
- ওমেগা-৩ ও প্রোটিন: হৃদযন্ত্র সচল রাখতে মাছ বা দানাশস্যের গুরুত্ব অপরিসীম।
- বর্জনীয়: অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড এবং বাইরের ভাজাভুজি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
২. অলসতাকে বিদায়, শরীরচর্চায় মন
অলস শরীর রোগের আড়ত। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি কেবল ওজন কমায় না, বরং হাড় ও পেশিকে শক্তিশালী করে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। সকালের মিষ্টি রোদ শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৩. মানসিক প্রশান্তি ও পর্যাপ্ত ঘুম
শরীর ভালো রাখতে মনের যত্ন নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত উদ্বেগ বা স্ট্রেস রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। মন শান্ত রাখতে নিয়মিত ধ্যান বা প্রাণায়াম করুন। মনে রাখবেন, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুমের প্রয়োজন। ভালো ঘুম মস্তিষ্ককে সচল রাখে এবং স্থূলতার ঝুঁকি কমায়।
৪. বর্জন করুন ক্ষতিকর অভ্যাস
ধূমপান ও মদ্যপান লিভার এবং ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করে, যা ক্যানসারের মতো রোগের প্রধান কারণ। দীর্ঘ জীবন পেতে এই মরণনেশা ত্যাগ করুন। পাশাপাশি, বছরে অন্তত একবার বা দুবার ফুল বডি চেকআপ করান, যাতে শরীরে কোনো রোগ বাসা বাঁধলে তা শুরুতেই ধরা পড়ে।
৫. ইতিবাচক চিন্তা ও সামাজিকতা
গবেষণা বলছে, যারা একাকীত্বের বদলে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সাথে সময় কাটান, তাদের আয়ু বেশি হয়। ইতিবাচক চিন্তা শরীরে ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসরণ করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাই হাসিখুশি থাকুন এবং জীবনের প্রতি আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখুন।

