লেটেস্ট নিউজ

দুরন্ত প্রত্যাবর্তন! টাকার ঘুরে দাঁড়ানোয় মার্কিন মুলুকে শোরগোল, ধরাশায়ী ডলার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) বাণিজ্য চুক্তি, শেয়ার বাজারের চাঙ্গাভাব, ফরেক্স রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং ডলার ইনডেক্সে পতনের জেরে মঙ্গলবার কারেন্সি মার্কেটে দুর্দান্ত কামব্যাক করল ভারতীয় টাকা। গত শুক্রবার ডলারের বিপরীতে টাকার মান প্রায় ৯২-এ নেমে গিয়েছিল, যেখান থেকে মঙ্গলবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশীয় মুদ্রা।

শনি ও রবিবার বাজার বন্ধ ছিল। সোমবার প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে ছুটির পর মঙ্গলবার যখন বাজার খোলে, তখন টাকা বিনিয়োগকারী ও ট্রেডারদের হতাশ করেনি। ডলার ইনডেক্সের পতন টাকার জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি না ঘটলে টাকার মান আরও বাড়তে পারত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত-ইইউ বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণার পর আগামী দিনে টাকা আরও শক্তিশালী হতে পারে। এর ফলে আমেরিকার ওপর ভারতের সাথে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি করার চাপ বাড়বে। এছাড়া মার্চ মাস থেকে কানাডার সঙ্গেও বাণিজ্যিক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ডলারের বিপরীতে টাকার লড়াই

মার্কিন ডলার ইনডেক্সে পতন এবং ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন FTA (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) আলোচনার ইতিবাচক প্রভাবে মঙ্গলবার টাকা তার সর্বকালীন নিম্নস্তর থেকে ১৯ পয়সা পুনরুদ্ধার করে ৯১.৭১ (অস্থায়ী) স্তরে বন্ধ হয়েছে। ইন্টারব্যাংক ফরেক্স মার্কেটে এদিন টাকা ৯১.৮২-এ খোলে এবং দিনের শেষে ৯১.৭১-এ থিতু হয়। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার টাকা ৯২-এর ঐতিহাসিক নিম্নস্তরে পৌঁছেছিল।

কেন বাড়ছে টাকার শক্তি?

মিরে অ্যাসেট শেয়ারখানের রিসার্চ অ্যানালিস্ট অনুজ চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ফলে ঘরোয়া বাজারের সেন্টিমেন্ট শক্তিশালী হয়েছে। তবে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) বিক্রি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কিছুটা চাপ বজায় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ ট্যারিফ বসানোর যে হুমকি দিয়েছে, তার প্রভাবও বাজারে পড়ছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে টাকার দাম ৯১.৩০ থেকে ৯২-এর মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

‘মাদার অফ অল ডিল’: ভারত-ইইউ চুক্তি

মঙ্গলবার ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা সমাপ্তির ঘোষণা করেছে। এর ফলে পোশাক, রাসায়নিক এবং জুতোর মতো ভারতীয় পণ্য ইউরোপের ২৭টি দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা পাবে। বিনিময়ে ইউরোপীয় মদ এবং গাড়ি ভারতীয় বাজারে ছাড় পাবে। প্রায় ২০০ কোটি মানুষের বিশাল বাজার তৈরি হওয়ায় এই চুক্তিকে ‘মাদার অফ অল ডিল’ বলা হচ্ছে।

বাজারের অন্যান্য চিত্র:

  • ডলার ইনডেক্স: ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের শক্তি পরিমাপক ইনডেক্স ০.১২ শতাংশ কমে ৯৬.৯২-এ দাঁড়িয়েছে। গত এক সপ্তাহে ডলার ১.৭৪ শতাংশ দুর্বল হয়েছে।
  • অপরিশোধিত তেল: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ০.৩৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৬৫.৮৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
  • শেয়ার বাজার: মঙ্গলবার সেনসেক্স ৩১৯.৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ৮১,৮৫৭.৪৮ এবং নিফটি ১২৬.৭৫ পয়েন্ট বেড়ে ২৫,১৭৫.৪০-এ পৌঁছেছে।
  • ফরেক্স রিজার্ভ: ১৬ জানুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ১৪.১৬৭ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ৭০১.৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে রেকর্ড গড়েছে।

ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

ভারত-ইইউ চুক্তির পর আমেরিকার ওপর ভারতের সাথে ডিল করার চাপ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত এখন রফতানির জন্য শুধু আমেরিকার ওপর নির্ভরশীল নয়। ভারত যদি ইউরোপের মাধ্যমে আমেরিকার বাজারে পণ্য পাঠায়, তবে মার্কিন ক্রেতাদের জন্য সেই পণ্য আরও দামি হবে। ফলে সরাসরি ভারতের সঙ্গে চুক্তি করাই ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য লাভজনক হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *