দেশে নয়া আতঙ্ক নিপাহ ভাইরাস, ১০০ জন কোয়ারেন্টাইনে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
করোনার স্মৃতি ফিকে হতে না হতেই ভারতে হানা দিল আরও এক প্রাণঘাতী সংক্রমণ। পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড ও তামিলনাড়ুসহ একাধিক রাজ্যে নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ায় দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে ৫ জন আক্রান্ত হওয়ার পর তড়িঘড়ি ১০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, এই ভাইরাস সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়, ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা সবথেকে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।
হাসপাতালের অন্দরেই সংক্রমণের থাবা
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব হাসপাতালগুলিকেও আতঙ্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। কলকাতার হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসাধীন রোগী থেকে শুরু করে ডাক্তার ও নার্স—সকলেরই আক্রান্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিপূর্বেই সতর্ক করেছে যে, নিপাহ ভাইরাস ভবিষ্যতে মহামারি আকার ধারণ করার ক্ষমতা রাখে।
নিঃশব্দ ঘাতক: উপসর্গহীন সংক্রমণ
নিপাহ ভাইরাসের সবথেকে ভয়ংকর দিক হলো এর ‘ইনকিউবেশন পিরিয়ড’। শরীরে ভাইরাস প্রবেশের পর ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত কোনো লক্ষণ প্রকাশ না করেই এটি সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই দীর্ঘ সময়ে সংক্রমিত ব্যক্তি অজান্তেই বহু মানুষের মধ্যে রোগটি ছড়িয়ে দিতে পারেন, যা একে ‘সাইলেন্ট কিলার’-এ পরিণত করেছে।
হু-এর সতর্কতা: মৃত্যুর হার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহ-কে ‘প্রায়োরিটি ডিজিজ’ বা অগ্রাধিকার ভিত্তিক রোগের তালিকায় রেখেছে। করোনার প্রাথমিক পর্যায়ের মতোই বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট ভ্যাকসিন বা টিকা নেই। পরিসংখ্যান বলছে, এই ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪৫ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা করোনা ভাইরাসের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি প্রাণঘাতী।
শনাক্তকরণে জটিলতা ও বিশেষ নজরদারি
নিপাহর প্রাথমিক উপসর্গগুলি সাধারণ ফ্লু বা মস্তিষ্কের জ্বরের (এনসেফালাইটিস) মতো হওয়ায় চিকিৎসকদের পক্ষে শুরুতে একে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো এবং ল্যাব টেস্টিংয়ের ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। আপাতত সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো অস্বাভাবিক শারীরিক অসুস্থতায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।

