লেটেস্ট নিউজ

নজরদারির আতঙ্ক: ফোনে টেপ আটকালেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ছবি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর ফোনের ক্যামেরার ওপর একটি টেপ লাগানো রয়েছে। মঙ্গলবার এই ছবি তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা এবং গুপ্তচরবৃত্তির হাত থেকে বাঁচতেই তিনি তাঁর ফোনের ক্যামেরায় টেপ লাগিয়ে রেখেছেন।

ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই ইরান এবং তাদের মদতপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিশানায় রয়েছেন। হিজবুল্লাহ এবং হামাসের মতো সংগঠনগুলো তাঁকে হত্যার একাধিক চেষ্টাও করেছে।

কখন তোলা হয়েছে এই ভাইরাল ছবি?

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গাজায় বন্দি থাকা শেষ ইজরায়েলি জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করে ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। এই খবর পাওয়ার পরপরই নেতানিয়াহুকে বিষয়টি জানানো হয় এবং সেই মুহূর্তেই ছবিটি ক্যামেরাবন্দি করা হয়। যদিও এই ভাইরাল ছবি নিয়ে ইজরায়েল সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে সাধারণ মানুষ ও নেটিজেনরা বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু করেছেন।

সাইবার বিশেষজ্ঞ আব্দুল কাদিরের মতে, “এটি নজরদারি এড়ানোর একটি অত্যন্ত কার্যকর উপায়। ফোনের ক্যামেরায় টেপ লাগালে হ্যাকাররা চাইলেও ব্যবহারকারীর অজান্তে ক্যামেরা চালু করে ভিডিও বা অডিও প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারে না।”

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে হিজবুল্লাহর সদস্যদের পেজার এবং ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের নেপথ্যে ইজরায়েলের উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সারা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল। প্রযুক্তিগতভাবে ইজরায়েল কতটা শক্তিশালী, তা সেই ঘটনাতেই প্রমাণিত হয়েছে।

১২ বছর ফোন ব্যবহার করেননি নেতানিয়াহু

নিরাপত্তার খাতিরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘ ১২ বছর কোনো ব্যক্তিগত সেলফোন ব্যবহার করেননি। অবশেষে ২০২৪ সালে তিনি নিজের জন্য একটি সেলুলার ফোন কেনেন। সাধারণত তিনি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়া রুখতে প্রযুক্তির থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই পছন্দ করেন। তবে তিনি মূলত আমেরিকান টেক-গ্যাজেট ব্যবহার করেন।

প্রসঙ্গত, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ইজরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন এবং সব মিলিয়ে প্রায় ২০ বছর ধরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *