নন্দীগ্রামে শুভেন্দুকে ঘিরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, মেজাজ হারিয়ে বিক্ষোভকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতার

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। বুধবার বিকেলে নির্বাচনী প্রচারের মাঝে এক সংখ্যালঘু পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। স্থানীয় বেশ কিছু মানুষ তাঁকে ঘিরে ধরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। আচমকা এই বিরোধিতায় মেজাজ হারিয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে নেমে বিক্ষোভকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় শুভেন্দুকে।
বিক্ষোভের মুখে মেজাজ হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা যায়, “২০২১ সালের মতো পরিস্থিতি আর নেই, দিনকাল বদলে গিয়েছে।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের বাড়িতে যাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রতি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি জানান, তাঁর বিধানসভা অফিস থেকে সব স্তরের মানুষ সাহায্য পেয়েছেন এবং তিনি আগামীতেও সমস্ত মুসলিম পরিবারে যাবেন। শুভেন্দুর এই কড়া অবস্থানের সময় এলাকায় উপস্থিত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতায় বড়সড় কোনো অশান্তি ঘটেনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে কটাক্ষ করে জানিয়েছে, পায়ের তলা থেকে মাটি সরছে বুঝেই শুভেন্দু অধিকারী এখন সংখ্যালঘু এলাকায় গিয়ে ‘মিথ্যে’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তৃণমূলের দাবি, হিন্দু ভোটব্যাঙ্কে ফাটল ধরাতেই এই জনসংযোগের নাটক করা হচ্ছে। পাল্টা জবাবে শুভেন্দু জানান, নন্দীগ্রামে এবার লড়াই তাঁর কাছে অনেক বেশি সহজ এবং জয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ নিশ্চিত।
এর আগে সকালে নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় পুজো দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে হলদিয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি তৃণমূলনেত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর এক জনসভায় তিনি দাবি করেন, গতবারের তুলনায় এবারের ভোট-যুদ্ধ বিজেপির জন্য অনেক বেশি অনুকূল। এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা থাকলেও শুভেন্দু এলাকা ছাড়ার পর নতুন করে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
