নবজাতকের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মাতৃদুগ্ধের ভূমিকা, সতর্ক থাকার পরামর্শ চিকিৎসকদের
নবজাতক শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিস বা ‘নিওনেটাল ডায়াবেটিস’ একটি বিরল জিনগত সমস্যা যা সাধারণত জন্মের প্রথম ছয় মাসের মধ্যে ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গগনদীপ সিংয়ের মতে, প্রতি এক থেকে চার লক্ষ শিশুর মধ্যে একজনের এই সমস্যা হতে পারে, যেখানে অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। এটি প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং এর পেছনে গর্ভাবস্থায় মায়ের জীবনযাপনের কোনো ভূমিকা নেই।
এই রোগের লক্ষণগুলো সাধারণ সমস্যার মতো হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা পর্যাপ্ত খাওয়ার পরেও ওজন না বাড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত করতে জেনেটিক পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না করলে শিশুর বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় গুরুতর জটিলতা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
নিওনেটাল ডায়াবেটিসের সরাসরি নিরাময় না হলেও শিশুর সুরক্ষায় মাতৃদুগ্ধের বিকল্প নেই। মায়ের দুধে পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য থাকে যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া স্তন্যপান শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে। ইনসুলিন সমস্যা থাকা শিশুদের জন্য অল্প অল্প করে বারবার মায়ের দুধ খাওয়ানো শরীরের পক্ষে শর্করা গ্রহণ সহজতর করে তোলে।

