নরককুণ্ডে স্বাগতম, মার্কিন সেনাদের জন্য কফিন তৈরি রাখছে ইরান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকার সম্ভাব্য স্থল অভিযানের খবরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবার চরম শিখরে। পেন্টাগন যখন ইরানে কয়েক সপ্তাহের জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠানোর নীল নকশা তৈরি করছে, ঠিক তখনই তেহরান থেকে ধেয়ে এল ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি। ইরানের সংসদ স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের সেনারা মার্কিন বাহিনীর ওপর অগ্নিবর্ষণ করার জন্য আঙুল ট্রিগারে রেখে অপেক্ষা করছে।
জল-স্থল-আকাশে যুদ্ধের মেঘ
ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবুজ সংকেত দিলেই ইরানের মাটিতে শুরু হবে কমান্ডো অপারেশন। ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরের দিকে ৫০০০ নৌসেনা নিয়ে এগোচ্ছে রণতরী ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদেরও। মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, স্থল সেনা ছাড়াই লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হলেও ট্রাম্পের হাতে সবরকম সামরিক বিকল্প খোলা রাখা হচ্ছে।
কূটনীতির আড়ালে কি ষড়যন্ত্র?
ইরানের অভিযোগ, আমেরিকা একদিকে আলোচনার কথা বলছে আর অন্যদিকে গোপনে হামলার ছক কষছে। তেহরান টাইমস তাদের বিশেষ সংস্করণের শিরোনামে লিখেছে— ‘ওয়েলকাম টু হেল’। সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইরানের মাটিতে পা রাখা মার্কিন সৈন্যরা কেবল কফিনেই ফিরবে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই অবিশ্বাস এখন এক ভয়াবহ সংঘাতের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে।
অস্থির মধ্যপ্রাচ্য, ড্রোন ও মিসাইল হামলা
যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। সৌদি আরব গত কয়েক ঘণ্টায় ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে। অন্যদিকে, তেহরানে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল আরবি’-র অফিসে মিসাইল আছড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। মিশর, তুরস্ক ও সৌদি আরবের বিদেশমন্ত্রীরা পাকিস্তানে জরুরি বৈঠকে বসলেও পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার লক্ষণ নেই। বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে— ইরান কি সত্যিই আমেরিকার জন্য ‘নরকের দ্বার’ খুলে দেবে?

